logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আপনি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে না বিপক্ষে ?
আমাদের রাজশাহী ডট কম এর পাঠক জরিপে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের রাজশাহী ডট কম এর সদস্য হয়েও আপনি মতামত দিতে পারেন যেটি সরাসরি আমাদের রাজশাহী ডট কম এর প্রথম পাতায় প্রদর্শিত হবে। (No Moderate)

দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের প্রতিবাদ প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন মহাজোটের সংসদ সদস্যরা।

জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়ায় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সমালোচনাও করেছেন তারা।

একই সঙ্গে শরিয়া আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তারা আরো বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তা-বে বিএনপিও যুক্ত ছিল।

রোববার জাতীয় সংসদে মাগরিবের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ফজলে রাবি্ব মিয়া, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. ফজলুল আজিম। মাগরিবের বিরতির পর ফজলুল আজিম স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফ্লোর চান। স্পিকার ফ্লোর দিলে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। এই বিচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত ইসলামী সহিংস কর্মসূচি পালন করছে- যা কারো কাছেই কাম্য নয়।

আমরা এর বিচার চাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শরিয়া আইনের কথা বলে জনমনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরো বলেন, শরিয়া আইন সংবিধানের পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী শরিয়া আইনে বিচারের কথা বলেছেন। তাহলে কি সংবিধান সংশোধন করে শরিয়া আইন প্রবর্তন করা হবে। আমরা কি শরিয়া আইনে যাচ্ছি? এরপর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ফ্লোর নিয়ে বলেন, 'শরিয়া আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমিও বিভ্রান্ত হয়েছি। প্রচলিত আইনে জামায়াতের বিচার করা যায়।

পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়েছে, আইনমন্ত্রীর ওপর হামলা হয়েছে। এই সহিংস ঘটনা নিয়ে সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি ব্যবস্থা নিয়েছেন- সে বিষয়ে বিবৃতি আশা করছি।' তিনি আরো বলেন, 'জামায়াত-শিবিরের রগকাটা ও চোখ তোলার রাজনীতি নতুন কিছু নয়। জাতি তাদের চরিত্র ভালো করেই জানেন।

তাদের জঙ্গি তৎপরতার কারণে পঞ্চম জাতীয় সংসদেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ওঠেছিল। ১৯৭২-এর সংবিধানেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৫তম সংশোধনীতে এ বিষয়ে আপস করার কারণেই দেশের আজকের এই ভয়াবহ অবস্থা। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি নির্বাচন কমিশনের আদেশ পর্যন্ত মানছে না।' পরে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন তাদের মুক্তির জন্য বিবৃতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, কমান্ডো স্টাইলে জামায়াত বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা করছে। পুলিশ সেখানে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। মতিয়া চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার নাম উল্লেখ না করে বলেন, আমাদের দেশের একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রদূত ওই জামায়াতের সঙ্গে সংলাপে বসতে বলেছেন। আমি তার কাছে উল্টা প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনার দেশে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হতো আপনি কি প্রেমালাপে বসতেন? তিনি বলেন, একদিকে আইনের শাসনের কথা বলেন, অন্যদিকে সংলাপের কথা বলেন। এ ধরনের কথা ওই আক্রমণকারীদের উৎসাহিত করে।

আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি আরো বলেন, তারা বসার কথা বলে, নিরপেক্ষতার কথা বলে ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে। আর সেটা অন্যায়কারীদের শক্তি যোগায়। নিরপেক্ষতার কথা বলে তারা অন্যায় করে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, শক্তি থাকলে ঘাড় ধরে যে সব কিছু করানো যায় না, তা ১৯৭১ তারা দেখেছে। এখনো তাদের দেখা উচিত। আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছে, আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যখন শেষ পর্যায়ে তখন জামায়াত-শিবিরসহ একাত্তরের ঘাতক, জঙ্গি ও বিএনপির একটি অংশ অরাজকতা সৃষ্টি করে বিচারকে বানচাল করার চক্রান্ত করছে।

চোরাগোপ্তাভাবে কমান্ডো স্টাইলে পুলিশের ওপর হামলা করছে। তাদের কোনো ক্ষমা করা যাবে না। খালেদা জিয়া আক্রমণকারীদের রক্ষার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির লোক এসব হামলার সঙ্গে জড়িত। হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি, হিযবুত তাহরীকে নিষিদ্ধ করা গেলে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা যাবে না কেন। খালেদা জিয়া যতই চেষ্টা করুক, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবে না। তোফায়েল আহমেদ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপে বসতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। কীভাবে তারা একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার কথা বলতে পারে। তিনি আইনমন্ত্রীকে জামায়াতের কর্মকা- নিয়ে বেশি কথা না বলে বা বিবৃতি না দিয়ে জনসাধারণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই প্রথম প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে দাবি উত্থাপন করেছে। আর সেই দাবি আদায়ে সশস্ত্র হামলার পথ বেছে নিয়েছে- যা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধের ঘোষণা।

যে ঘটনা একাত্তরে ঘটেছিল। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ, বানচাল ও বাধাদানের মাধ্যমে তারা আইন ভঙ্গ করেছে। এজন্য যারা হামলা করছে, তাদের পাশাপাশি জামায়াত দলগতভাবে অপরাধী। তাদের ক্ষমা করা যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেউই বানচাল করতে পারবে না।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থন দেননি। বরং যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। জামায়াতকে রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে নিয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান না।

পাতাটি ৩৭৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন