logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীর বাগানপাড়া বস্তি যেন মাদকের বাগান

রাব্বুল তিন বছর আগেও রাজশাহী শহরে রিকশা চালাতেন। এখন আর চালান না। খড়ের বাড়ি থেকে তার হয়েছে পাকা বাড়ি। ব্যাংকে টাকাও জমেছে। সম্প্রতি ১০ লাখ টাকার জমি কিনেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কিছু তিনি করেছেন মাদক ব্যবসা করে।

শুধু রাব্বুল নন, রাজশাহী মহানগরীর বাগানপাড়া বস্তিজুড়ে গড়ে উঠেছে মাদকের আখড়া। হেরোইন-ফেনসিডিল থেকে শুরু করে চোলাই মদ সব ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় এ বস্তিতে। ব্যবসা নিরাপদ রাখতে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রেতা কমিটি। এ ব্যবসা থেকে আয়ের একটি অংশ প্রতিদিন চলে যায় পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীদের পকেটে।

স্থানীয়রা জানান, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর বাগানপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশের ওই বস্তিটি উচ্ছেদ করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে আবারও বস্তি গড়ে ওঠে। এরপর সেখানে শুরু হয় মাদকের ব্যবসা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি হাসানুজ্জামান ইলিয়াস জানান, বাগানপাড়া এলাকার বিডিআর বাবু, জন, জরিনা, বজলু, ঢাকাইনি, জনি, রাব্বুল, আসলামসহ ৩৫-৪০ জন মিলে এই আখড়া নিয়ন্ত্রণ করেন। বাগানপাড়া বস্তি এলাকায় প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য বিক্রি হয় বলে তার ধারণা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে ট্রেনে করে মাদক আসে। তারপর বস্তির পাশে গতি কমিয়ে তা নামিয়ে দেওয়া হয়।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে এসে প্রতিদিন বখরা নিয়ে যান। ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের জোরালো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। কয়েক মাস আগে রাজপাড়া থানার রেজাউল নামের একজন উপ-পরিদর্শককে প্রকাশ্যে মারপিট করেন মাদক ব্যবসায়ীরা। তারপরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাসিক সভা থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানানো হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

শুধু পুলিশ নয়, মাদক ব্যবসার বখরার অর্থ যায় রাজনৈতিক কর্মীদের পকেটেও। রাব্বুলের স্ত্রী ভানু দাবি করেন, তার স্বামী একসময় মাদকের ব্যবসা করলেও এখন করেন না। যখন ওই ব্যবসায় ছিলেন তখন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এসে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেত। চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিএনপির কর্মীরা টাকা নিত। এখন সব রাজনৈতিক দলের কর্মীরাই টাকা নেয়।

কথিত মাদক ব্যবসায়ী ফজলুর রহমানের পুত্রবধূ রাজিয়া জানান, তারা মাদক ব্যবসা করেন না, তারপরও তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এসে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। বাগানপাড়া বস্তিতে কথা বলতে গেলে বেশ কয়েকজন দাবি করেন, তারা আগে মাদকের ব্যবসা করতেন, এখন করেন না। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার এ দাবি সঠিক নয়।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন দাবি করেন, পুলিশ বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বখরা নেয় না। বরং মাদক বিক্রির খবর পাওয়া মাত্র অভিযান চালিয়ে তা আটক করা হয়।

পাতাটি ৩৩৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন