logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo যে ভাষায় কথা, জবাব সে ভাষায়ই: খালেদা
উস্কানিমূলক কথার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের হুঁশিয়ার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এ জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রস্তত থাকতেও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সভায় তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে, সে ভাষায়ই জবাব দেওয়া হবে। এজন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্ততি নিতে হবে।”

বিরোধী দলের আন্দোলনে জনসমর্থন নেই এবং নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একথা বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি দাবি করেন, বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী।

খালেদা বলেন, “আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, সরকার যত কথাই বলুক না কেন, তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ এনে বিরোধী নেত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আত্মীয়-স্বজনরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারের মন্ত্রীরা দুর্নীতি করছে। ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে জনগণ তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। তাদের অবস্থান কোথাও হবে না।”

নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের বদলে গণসংযোগের কর্মসূচি দেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের মতো লগি-বৈঠা, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না। জনগণকে নিয়ে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাই।”

“আমরা চার বছরে মাত্র ১১টি হরতাল দিয়েছি। আর আওয়ামী লীগ ওই সময়ে ১৭৩টি হরতাল দিয়েছিল,” উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমাতে নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজনই সচিবালয়ে বোমা ফাটিয়ে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। বোমা হামলা করতে তারা পটু।”

“সরকার ভেবেছে, নেতাদের কারাগারে রেখে আন্দোলন দমানো যাবে। এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে না,” বলেন তিনি।

দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে ‘মুক্তির’ জন্য জনগণকে সংগঠিত হওয়ার আহবান জানান খালেদা।

‘ঘরে খুন, বাইরে গুম’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “ঘরে মানুষ খুন হচ্ছে, আর বাইরে মানুষ গুম হচ্ছে। এই হচ্ছে সরকারের দেশ পরিচালনার নমুনা।”

“অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গলা ফাটিয়ে বলছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোনো সময়ের থেকে ভালো। তিনি কি চোখ বন্ধ করে রেখেছেন? কিছুই দেখছেন না। নাকি উট পাখির মতো বালিতে মাথা লুকিয়ে রেখেছেন,” বলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সভায় বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাউয়ালও ছিল।

সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান দিতে সরকারের প্রতি সভায় দাবিও জানান বিএনপি নেতারা।

স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজন

স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। গত ১৯ আগস্ট ছিল সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু ঈদের কারণে অনুষ্ঠান পরে হল।

এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মহানগর নাট্যমঞ্চ (বশির মিলনায়তন) ও পুরো প্রাঙ্গণ ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন-পতাকায় সাজানো হয়।

টানানো হয় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর বড় প্রতিকৃতি।

মহানগর নাট্যমঞ্চের মিলনায়তন ছাড়াও বাইরে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভাটি সমাবেশে রূপ নেয়।

মিলনায়তনের বাইরে স্থাপিত বড় পর্দার মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান দেখেন। আলোচনা অনুষ্ঠানের পর অতিথি সারিতে বসে খালেদা জিয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি কাজী আসাদুজ্জামান, ফজলুল হক মিলন, সংগঠনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আলী রেজাউর রহমান রিপন, উত্তরের আহবায়ক ইয়াসীন আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপি নেতা আর এ গনি, এম কে আনোয়ার, মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, এম এ মান্নান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ এম এম আবদুল হালিম, আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লাহ বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মারুফ কামাল খান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কামরুজ্জামান রতন, সাইফুল আলম নিরব, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ।

পাতাটি ৩১৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন