logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজধানীতে শিবিরের শোভাযাত্রায় পুলিশের হামলা আহত ২০, গ্রেফতার ১০
ইসলামী ছাত্র শিবিরের শোভাযাত্রায় হামলা চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় শিবির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। গতকাল সকালে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমজানের শোভাযাত্রা শেষে ফেরার পথে বিনা উস্কানিতে পুলিশ শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে।
মতিঝিল থানার ওসি হায়াত-উজ-জামান জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে শিবিরের প্রায় ৩/৪শ’ কর্মী মতিঝিল এলাকায় একটি মিছিল বের করে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল থেকে স্লোগান দেয়া হয়। মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি আরামবাগে নটর ডেম কলেজের সামনে পৌঁছলে পুলিশ তাতে বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষকালে ৮/১০ জনকে আটক করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে আরামবাগ ও ফকিরেরপুল রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আধা-ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থতি স্বাভাবিক হয়ে এলে আবার যান চলাচল শুরু হয়।
শিবিরের নিন্দা : মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বের করা ছাত্রশিবিরের শোভাযাত্রা থেকে ফেরার পথে পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নেতারা। এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুল জব্বার বলেন, শোভাযাত্রায় পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারের মাধ্যমে আওয়ামী সরকার নিজেদের ইসলামবিরোধী অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেছে। মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বের করা শোভাযাত্রায় পুলিশের এই ন্যক্কারজনক হামলা দেশের ইসলামপ্রিয় জনতার হৃদয়ে আঘাতের শামিল। এই হামলা জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। আমরা সরকারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
নেতারা ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে ও অবিলম্বে গ্রেফতার করা নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শিবির সভাপতি বলেন, রমজান আসার আগেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে জনগণের অবস্থা শোচনীয়। জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। কোরআন নাজিলের এই মাসে কোরআনের সৈনিকরা কারাগারে বন্দি থাকবেন, এটা দেশ ও জাতির জন্য অপমানজনক। বাংলাদেশের জনগণ রমজান মাসের আগেই কোরআনের সৈনিক জামায়াত নেতাদের মুক্তি চায়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রমজানের আগেই তাদের মুক্তি দিতে হবে।
শোভাযাত্রায় আরও অংশ নেন শিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আতিকুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মো. ইয়াহইয়া, কলেজ সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, এইচআরডি সম্পাদক মো. ইয়াছিন আরাফাত, অর্থ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো. দেলওয়ার হোসেনসহ ঢাকা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতিরা।

পাতাটি ২৫৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন