logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পাওনা টাকা না দেয়ায় পরিচ্ছনতা কর্মীর মামলা; সিটি মেয়র লিটনসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালত গতকাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সিটি করপোরেশনের একজন কর্মচারীর অবসরকালীন আনুতোষিক ও ভবিষ্যৎ তহবিলের পাওনা পরিশোধ সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত অমান্য করায় গতকাল রোববার তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, এ মামলার বাদি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) আব্দুল জববার। তার বাড়ি নগরের দাশপুকুর এলাকায়। এমামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। মামলার অপর আসমামীরা হচ্ছেন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, সচিব এ এম আব্দুস সালাম, ও বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।
মামলার বাদি ২০১০ সালের ২৫ মে রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, আব্দুল জববার ১৯৭৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাজশাহী পৌরসভার কর্মচারী হিসাবে কাজে যোগদান করেন। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১০ সালের ২৬ফেব্রুয়ারি সিটি করপোরেশন থেকে তাকে প্রাপ্ত আনুতোষিক ও ভবিষ্যৎ তহবিল-সনদ প্রদান করা হয়। এতে প্রাপ্য সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে চার লাখ আট হাজার ২৮০ টাকা কিন্তু সিটি করপোরেশন তাকে এই পাওনার বিপরীতে দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করে। বাকি টাকা তার প্রাপ্য নয় বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। বাকি টাকার জন্য ২০১০ সালের ৭ মার্চ আবেদন করলে তার পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সিটি করপোরেশনের সচিব ৪ এপ্রিল তার আবেদন খারিজ করে দেন। অথচ তার মতো অপর তিনজন তত্তবাবধায়ককে তাদের পূর্ণপ্রাপ্য টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশেষে তিনি শ্রম আদালতে মামলা করেন।
এই মামলায় রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতের তৎকালীন বিচারক কবিতা খানম আব্দুল জববারের পাওনা দুই লাখ তিন হাজার টাকা ও বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে আরো ৫০হাজার ৭৫০ টাকা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।
সিটি করপোরেশন এ নির্দেশ অমান্য করলে তিনি গত ১১ এপ্রিল একই আদালতে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। পরের দিন ১২ এপ্রিল আদালত এ মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এতে গত ১০ মে তাদের সশরীরে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তারা আদালতে হাজির হননি। ওই দিনই আদালতের চেয়ারম্যান আনসার আলী মামলার বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
গতকাল রোববার এই আদেশ জারি করা হয়। আদালত বোয়ালিয়া থানাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার নির্দেশ দেন।
মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী কোরবান আলী বলেন, মামলার বিবাদীরা গত ১০ মে আদালতে হাজির হলে আর এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতো না। মূলত আদালত অবমাননার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. শাহরিয়ার জানান, তিনি তখনো এই আদেশ হাতে পাননি।
এব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে রাজশাহী শ্রম আদালতের, শ্রম কেস নং- ২৪/১০ এর রায়ের বিরূদ্ধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে গত ৯ এপ্রিল রিট পিটিশন করে। রিট পিটিশন নং-৩৫৫১/১২ এবং গত ৭মে শ্রম আপিল ট্রাইবুনালে আপিল দায়ের করে। আপিল নং-১৮১/১২ । আপিল ও রিট পিটিশনের ইনফরমেশন স্লিপ গত ১০ মে রাজশাহী শ্রম আদালতে কর্পোরেশনের বিজ্ঞ আইনজীবির মাধ্যমে জমা দেয়া হয়। ওই দিনের শুনানিতে আদালত প্রকাশ্যভাবে সিটি কর্পোরেশনকে সময় প্রদান করে বা সময় মঞ্জুর করে।
হাইকোর্টে রিট পিটিশন ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার তথ্য শ্রম আদালতে ইনফরমেশন স্লিপ জমা দেয়ার পরেও উক্ত আদালতে বিবাদী পক্ষকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করায় আমরা বিস্মিত।
এছাড়াও জনপ্রতিনিধিগনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারিপরোয়ানা জারি করতে হলে সরকারের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ প্রয়োজন। আদালত তা করেনি।

পাতাটি ২৮০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন