logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo প্রকৌশলীর অপসারণ দাবি : রাজশাহীতে ঝাড়ু মিছিল
ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধ, ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল মিটার স্থাপন বন্ধ ও রাজশাহী বিদ্যুত্ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর অপসারণের দাবিতে রাজশাহীতে ঝাড়ু মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ ও বিদ্যুত্ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিদ্যুত্ ভবনের সামনে রাজশাহীরক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদের সামনে থেকে একটি ঝাড়ু মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন পেশার নারী ও পুরুষ অংশ নেন।
পরে বিদ্যুত্ ভবন ঘেরাও ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তার অবিলম্বে রাজশাহী থেকে প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার রায়কে অপসারণের দাবি জানান। অন্যথায় যে কোনো প্রকারে রাজশাহীরক্ষা সংগ্রাম পরিষদ তাকে রাজশাহী থেকে বিতাড়ন করবে বলেও হুশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে রাজশাহী নগরীতে এনালগ মিটার পরিবর্তন করে ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল মিটার স্থাপন বন্ধসহ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের জোর দাবি জানানো হয়।
রাজশাহীরক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম শাফিক, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু বাক্কার আলী, সিপিবির রাজশাহী মহানগর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ন্যাপ নেতা মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল মিটার স্থাপনের চেষ্টা বন্ধসহ রাজশাহী নগরীর কলকারখানা চালু রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের দাবি জানান।
এ সময় বিদ্যুত্ ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা প্রধান প্রকৌশলীসহ বিদ্যুতের দুর্নীতিতে জড়িত কিছু নির্বাহী প্রকৌশলীদের প্রতি থু থু নিক্ষেপ করে ঘৃণা প্রকাশ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নম্ন করতে বিদ্যুত্ বিভাগের প্রকৌশলীরা ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পাঁয়তারা করছেন। রাজশাহীর কাটাখালিতে বিদ্যুতের প্লান্ট নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হলেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে না। কলকারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের কারণে গত তিনমাস ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে স্মারকলিপি দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং তাদের উপেক্ষা করে ত্রুটিপূর্ণ মিটার বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা ভৌতিক বিলের সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ শহরের ৪টি মহল্লায় বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়রা গতকাল দুপুর ২টা থেকে ৫টা ৩ ঘণ্টা চাঁদমারী সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। গত ৪ দিন ধরে শহরের চাঁদমারী, মোহাম্মদপাড়া, হীরাবাড়ি রোড, সবুজবাগ এলাকায় বিদ্যুত্ নেই। এতে ১ হাজার পরিবারে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ওই এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করতে পারছেন না। বিদ্যুতের অভাবে পানি সমস্য দেখা দিয়েছে। বাথরুম, গোসল, রান্নাবান্না, ধোয়া-মোছার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হচ্ছে।
আজকের মধ্যে বিদ্যুত্ সরবরাহ করার আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।
গোপালগঞ্জের চাঁদমারীর বাসিন্দা আবদুল মান্নান মানি বলেন, বৃহস্পতিবার চাঁদমারীর ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়। তারপর থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এলাকার মানুষ বিদ্যুত্ ও পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রভাষ কুমার দাস বলেন, যশোর থেকে ট্রান্সমিটার এনে স্থাপন করা হবে। তারপর বিদ্যুত্ সরবরাহ করে এলাকার মানুষকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করা হবে।

পাতাটি ২৫০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন