logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/ ছুটির দিনগুলোতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বেশী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটির দিনগুলোতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বেশি। গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড ও কার্ডিওলজী ওয়ার্ডে রোগী মারা গেছে ১৬ জন। আর বাকি ৫ জন মারা গেছেন সড়ক দুঘর্টনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস’ায়। গত শুক্রবার বিকেল ৪ টার পর থেকে ওয়ার্ড মাস্টার অফিসে আসতে থাকে একের পর এক লাশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার হাসপাতালে মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৬ জন শিশু রয়েছে। এছাড়াও বাকিরা স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, এনকেফালাইটিস, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। শুক্রবারের পূর্ব দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মেডিসিন ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে মারা গিয়েছিলো ১৪ জন। এর মধ্যে পুলিশ কেস ছিলো ৫ টা। ২২ তারিখ মারা গেছে ১৮ জন। ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিনে মারা গেছে ১৬ জন। তার আগের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি মারা গেছে ২১ জন। ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন মারা গেছে ২১ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন দুঘর্টনার শিকার হয়ে মারা গেছে ৫ জন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ১২ জন এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ জন মারা গেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মারা গেছে ১০ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেছেন ছুটির দিনগুলোতে হাসপাতালের ইন্টার্নি ডাক্তার ছাড়া বড় কোন ডাক্তার আসেন না ওয়ার্ডে ছুটির দিন যে সব ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির নির্ধারিত দিন থাকে সেসব ওয়ার্ডেও অধ্যাপক সহযোগি অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদ মর্যাদার ডাক্তাররা নিয়মিত রাউন্ড দিতে আসেন না হাসপাতালে। শুধুমাত্র ইন্টার্নি ডাক্তারদের উপর নির্ভর করেই রোগীদের পড়ে থাকতে হয় সেখানে। এই কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হয় চরমভাবে। রোগীদের অভিযোগ এই কারণেই ছুরি দিনগুলোতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বেশি। এক প্রকার অবহেলা ও বিনা চিকিৎসাতেই মারা যান রোগীরা। হাসপাতালের উপ পরিচালক অবশ্য বলেছেন যে সব রোগী হাসপাতালে খুব খারাপ পর্যায়ে আসে হয়তো তারা মারা যায়। ছুটির দিনে ওয়ার্ডে ডাক্তার আসেন না এমন অভিযোগ সঠিক নয়। হাসপাতালে প্রতিদিনই নিয়মিত রাউন্ড হয়। ওদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা যখন একের পর এক রোগী মৃত্যুর কাগজপত্র ওয়ার্ড মাস্টার অফিসে আনছিলেন তখন তারাই আক্ষেপ করে বলছিলেন এত মানুষ মারা যাচ্ছে। গত শুক্রবার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীর অভিভাবকদের সাথে কথা বলা হলে তাদের অধিকাংশই জানিয়েছেন ওয়ার্ডগুলোতে বড় ডাক্তার আসেননি। এই কারণে চিকিৎসাও হয়নি ঠিকমত।

পাতাটি ২৪৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন