logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo দিনভর যাত্রীদের ভোগান্তি শেষে রাতে ধর্মঘট প্রত্যাহার
রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট রাতে প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সকাল থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আন্তঃজেলা ও ঢাকা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায় নি। ফলে সড়কপথে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভরসা ছিলো ভুটভুটি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
যোগাযোগমন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী অঞ্চলের পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন রবি।

তিনি বলেন, ‘আটটি দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেয়ার আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি আমরা। এখন থেকে সব গাড়ি যথারীতি চলবে।’ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেয়া, সহজশর্তে লাইসেন্স নবায়নসহ আটদফা দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু করেন রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার শ্রমিকরা। বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পরিবহন শ্রমিকনেতা ওসমান আলীসহ পরিবহন মালিক নেতারাও ছিলেন।

অপরদিকে বাস চলাচল না করায় সকাল থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। টিকিট না পাওয়ায় অনেকে ট্রেনের মধ্যে দাঁড়িয়ে এবং ছাদের ওপর উঠেই রওনা দিয়েছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। যারা তা পারেন নি তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। আন্তঃজেলা রুটের যাত্রীরা সিএনজি, মিশুক, টেম্পুতে করে গন্তব্যে গেছেন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে।

রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য যারা অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছেন তারাও পড়েছিলেন ভোগান্তিতে। ঢাকাগামী সব বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। শ্যামলী, ন্যাশনাল, হানিফসহ বিভিন্ন পরিবহন তাদের বিক্রি করা অগ্রিম টিকিটের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। ন্যাশনাল পরিবহনের রাজশাহী অফিসের কর্মকর্তা টিটু জানান, যেসব যাত্রী ঢাকা যাওয়া জন্য আগাম টিকিট কিনেছিলেন তাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক যাত্রী এসে তাদের টিকিট ফিরিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে গেছেন। অনেকে আবার পরের টিকিট নিয়ে গেছেন।

ঢাকায় কর্মরত রাজিব অফিসের কাজের জন্য গত মঙ্গলবার এসেছেন রাজশাহীতে। গতকাল বুধবার বিকেলে তার ঢাকায় ফিরে গিয়ে অফিস করার কথা। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে তিনি গতকাল যেতে পারেন নি। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘অফিসের কাজে রাজশাহী এসেছি। বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনের টিকিটের জন্য ঘোরাঘুরি করেও পাই নি।’

অন্যদিকে সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বিআরটিসি ও ট্রাক চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে পরিবহন শ্রমিকরা। সকালে কুমারপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে বিআরটিসি বাস ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেয়া হয়। ট্রাক চলাচলে বাধা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর তালাইমারী মোড়ে বাস ও ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

রাবিতেও পরিবহণ ধর্মঘটের ছায়া : রাজশাহী বিভাগে শ্রমিক ফেডারেশনে ডাকা ৭২ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের ছায়া পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ কারণে ক্যাম্পাস খোলা থাকলেও গতকাল বুধবার রাবির বাস চলাচল ছিলো বন্ধ। প্রশাসন পূর্বঘোষিত কোনো নোটিশ ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের ক্লাশ-পরীক্ষা যথানিয়মে চালু ছিলো। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো একেবারেই কম। কষ্ট করে যেসব শিক্ষার্থী রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তারাও দেরিতে উপস্থিত হয়েছেন ক্লাশে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকার কারণে রুটিনের চেয়ে কম ক্লাশ হয়েছে। কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ক্যাম্পাসের বাস চলাচল বন্ধ করায় যথাসময়ে ক্লাশ-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় বাস বন্ধ করায় সময়মতো ক্যাম্পাসে আসতে পারি নি। বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে পরে বাস না আসায় বাধ্য হয়ে জাদুঘর মোড় থেকে অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে আসতে হয়েছে। এজন্য একটি ক্লাশ করতে পারি নি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ আমাদের রুটিনে তিনটি ক্লাশ ছিলো। কিন্তু শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম হওয়ায় একটি মাত্র ক্লাশ হয়েছে।’

এরকম অনেক শিক্ষার্থী যারা ক্যাম্পাসের বাসের আশায় ঠিক সময়ে বাসা থেকে বের হয়েছে তারা ক্লাশ-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বিলম্ব করেছে কিংবা অনেকেই ক্লাশ-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে নি।

এ ব্যাপারে পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, ‘এর আগেও রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ করা হয় নি। কিন্তু রাজশাহী ইউনিট শ্রমিক ফেডারেশন গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসের বাস চলাচল বন্ধের জন্য আমার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করে। তাই সময়ের অভাবে ক্যাম্পাসের বাস চলাচল বন্ধের নোটিশ শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেয়া সম্ভব হয় নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাছাড়া তাদের (শ্রমিক ফেডারেশনের) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসের বাস চালু রাখলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিলো। তাই ভাঙচুরের আশঙ্কা এড়াতে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তবে তিনি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাস চলাচল শুরু সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের বাস চলাচলের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নকে অনুরোধ করবো। তারা না মানলে বিকল্প ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা হবে। আর যদি ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয় তবে বাস চলবে।’

প্রসঙ্গত, শ্রমিকদের ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজশাহী বিভাগীয় অঞ্চলে ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক ফেডারেশন।

পাতাটি ২৩৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন