logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo  নকল প্রসাধন কারখানা ছড়িয়ে পড়ছে রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে
রাজশাহী শহরে একাধিক নকল প্রসাধন কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনসামগ্রী উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দায়ের, কারাদণ্ড প্রদান ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অব্যাহত অভিযানের ফলে এসব কারখানা এখন শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। গত রোববার রাতে চারঘাটের একটি গ্রামে এ রকম একটি নকল কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বুধবার রাজশাহী মহানগরের বোসপাড়া তেঁতুলতলার একটি বাসায় অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাব-৫-এর সদস্যদের সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী ও প্রসাধনী তৈরির জন্য অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা বিপুল পরিমাণ উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এই প্রসাধনীর নাম ‘পার্ল কসমেটিক্স’। এ সময় কারখানার স্বত্বাধিকারী শাহিনুর রহমান বাসায় ছিলেন না। তাঁর মা বেলী জানান, তাঁর ছেলেরা কী করে তিনি কিছুই জানেন না। দোতলা বাসার ওপর তলা থেকে প্রচুর পরিমাণ কুরিয়ারের রসিদ উদ্ধার করা হয়। রসিদ থেকে জানা যায়, তাঁরা ঢাকা, সিলেট, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, শিবগঞ্জ, রংপুর, নাটোরের কাদিরাবাদ, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের পণ্য পাঠান। বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা অনুমোদন ছাড়াই পণ্য উত্পাদন, বিপণন এবং অনুমতি ছাড়া বিএসটিআইয়ের মনোগ্রাম ব্যবহার করে দুই ধরনের অপরাধ করেছেন। তাঁদের নামে তিনি আদালতে মামলা করবেন।
এর আগে গত রোববার রাতে র্যাব-৫-এর একটি দল চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে শিমুলের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় শিমুল বাসায় ছিলেন না। র্যাব সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনসামগ্রী এবং এগুলো তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে। এ সময় চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মইনুল হক আনসারী শিমুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। স্থানীয় লোকজন জানায়, চারঘাট বাজারে শিমুলের প্রসাধনসামগ্রীর একটি দোকান আছে। এখান থেকেই খুচরা ও পাইকারি মূল্যে এসব সামগ্রী বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। অভিযানের পর থেকে শিমুল পলাতক।
গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, রাজশাহীতে নামে-বেনামে ত্বকের রং ফরসা করা প্রায় ৪০টি কারখানা রয়েছে। পুলিশি অভিযান চলাকালে তাঁরা তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। আবার স্থান পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ করতে থাকেন। এ ব্যবসা চোরাচালানের মতোই লাভজনক। তাই অসাধু অনেক ব্যক্তি এখন ব্যাপকভাবে এ ব্যবসায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

পাতাটি ৩৩৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন