logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo গুলিতে জামায়াতকর্মীর মৃত্যু : আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে জামায়াতের মামলা
নগরীতে বিএনপির গণমিছিলের দিন পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে এক জামায়াতকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত জামায়াতকর্মী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী নীলা খাতুন বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ৯ পুলিশ সদস্য ও ৩ জন চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ২৫০ জন পুলিশ সদস্যকে আসামী করা হয়েছে। আদালতের বিচারক এফএম মেজবাহউল হক বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তা এজাহার হিসেবে গণ্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুকে।
মামলায় মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার শাহাদৎ হোসেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও জামায়াতকর্মী শফিকুলের ময়না তদন্ত দলের প্রধান ডা. মুনসুর রহমান, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. এএসএম রওশন নেওয়াজ, ডা. মো. জিনাত আলী, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামান, বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক (আর্মড) হাসিবুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারুক, সোলাইমান, জাফর ইকবাল ও হাসানুজ্জামানসহ অজ্ঞাত আরো ২৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বাদীপক্ষে আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম।
বাদী আদালতে করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, ৩০ জানুয়ারি গণমিছিলে যোগদানের উদ্দেশে চারদলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নগরীর লোকনাথ স্কুলের সামনে জমায়েত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামান, বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান, উপপরিদর্শক (আর্মড) হাসিবুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারুক, সোলাইমান, জাফর ইকবাল ও হাসানুজ্জামানসহ আরো পুলিশ সদস্য চারদলীয় জোট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার শাহাদৎ হোসেন একজন কনস্টেবলের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উপস্থিত লোকজনের ওপর গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এতে বাদীর স্বামী শফিকুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের অন্য সদস্যরা মিছিলে আসা লোকজনকে উদ্দেশ্যে করে টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে লাশ দেখতে বাধা দেয়া হয়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান পৃথক দুটি মামলা করেন। এছাড়া চিকিৎসকরা মিথ্যা (ফরমাইশি) ময়না তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেন। এ মামলায় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুসহ ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
জামায়াতকর্মী শফিকুলের মৃত্যুর ঘটনায় মহানগর পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এম. মনিরুজ্জামান জানান, একটি ঘটনায় একাধিক মামলা হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরেও যেহেতু মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা মামলাটির তদন্ত করবেন।

পাতাটি ২৮৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন