logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে আদিবাসী কনভেনশনে বক্তারা : সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলন
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় আদিবাসী পরিষদের চতুর্থ সম্মেলন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ভুবনমোহন পার্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

উদ্বোধকের বক্তব্যে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৯৯৩ সালে ৯ দফা দাবির মধ্যে দিয়ে সংগ্রামের যাত্রা শুরু করেছিলো জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। প্রথম সম্মেলন থেকেই প্রথম আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উচ্চারিত হয়। আজ চতুর্থ সম্মেলনে সেই দাবি আরো ত্বরান্বিত হবে। তিনি বলেন, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক আশা করেছিলাম যে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হবে। কিন্তু সেই দাবি সংসদে উত্থাপিত হলেও সরকার তা করেনি। সংসদে যে দাবি স্বীকৃতি লাভ করে না সেই দাবি রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করে নিতে হয়। যতদিন আদিবাসীদের এ অধিকার আদায় না হবে ততদিন আদিবাসীদের পতাকা তলে একসঙ্গে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আদিবাসীদের আহ্বান জানান।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি অনিল মারান্ডীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভাষাসৈনিক মোশাররফ হোসেন আখুঞ্জি, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী লিকু, জেলা ন্যাপ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান খান, মহানগর সিপিবি সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর জাসদ সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজিত সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিষয়ক কমিটির সদস্য দিপায়ন খিসা, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দেবাষিশ প্রামাণিক দেবু, রাজশাহী জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কল্পনা রায়, জেলা নারী আদিবাসী পরিষদের সভাপতি খ্রীস্টিনা বিশ্বাস, নওগাঁ জেলা বাসদ সমন্বয়কারী জয়নাল আবেদীন মুকুল, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুভাষচন্দ্র হেমব্রম, আদিবাসী যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন পাহান, পাবনা জেলা আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রামপ্রসাদ মাহাতো, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াকিম খালকো, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি সূর্য্য মুর্মু, দিনাজপুর জেলা সভাপতি শিতল মার্ডী, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বাবুল রবিদাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি বিচিত্রা তির্কি, রাজশাহী জেলা সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, নাটোর জেলা সভাপতি রমানাথ মাহাতো, দিনাজপুরের কৃষকনেতা আবদুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের আগে থেকেই এদেশের আদিবাসীরা নিপীড়িত, নির্যাতিত হয়ে আসছে। আদিবাসী নির্যাতনের কোনোরকম বিচার এদেশে হয় না। নির্যাতনের স্বীকার আদিবাসীদের মামলা থানা নিতে চায় না। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির অভাবে তারা এমন নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। বক্তারা আরো বলেন, আদিবাসীদের পৃথক ভূমি কমিশন না থাকার কারণে তাদের সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। শুধু সমতলে নয় দেশের সব জায়গায় আদিবাসীরা আজ নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে মহাজোট সরকার আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে নানারকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সবকিছু ভুলে গেছে। বক্তারা দ্রুত আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, বাদপড়া আদিবাসীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ও পৃথক ভূমি কমিশন বাস্তবায়নের দাবি জানান।

পাতাটি ২৩৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন