logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo গণমিছিল শুরুর আগে খালেদা : সেনা অভ্যুত্থান নয় গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল না করলে সেনা অভ্যুত্থানে নয়, গণঅভ্যুত্থানে মহাজোট সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার ঢাকায় বিএনপির গণমিছিলের আগে বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।

দুপুরের পর নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরুর আগে খালেদা আধা ঘণ্টার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করে খালেদা বলেন, ‘এখনো সময় আছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দিন। নইলে গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের (সরকার) পতন ঘটাবে। তখন জনগণকে আটকানোর সুযোগ পাবেন না।’

আগামী ১২ মার্চ ঢাকা মহাসমাবেশ সফল করতে দেশবাসীকে ‘চল চল-ঢাকা চল’ স্লোগানে রাজধানীতে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘১২ মার্চ দেশের মানুষ ঢাকায় অবস্থান করবেন। ওই কর্মসূচি থেকে আমি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা দেব।’

ওই সমাবেশে তিন গুণে জমায়েতের ঘোষণা দিয়ে খালেদা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘তাই এখনো সময় আছে, ক্ষমতায় ছেড়ে কোথায় যাবেন, তার ঠিক করে রাখুন।’ ১২ মার্চ ‘ঢাকা চল’ কর্মসূচিতে সবাইকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা দেশকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতিও আমি এই কর্মসূচিতে আসার আহবান জানাচ্ছি। আপনারা দেশকে বাঁচান, নিজেরাও বাঁচবেন।’

বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে দুপুর সোয়া ৪টায় শুরু হয় বিএনপির মিছিল। কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে ৫টায় মিছিলটি অগ্রভাগ মগবাজার চৌরাস্তায় পৌঁছে। তবে খালেদা সেখানে পৌঁছান বিকাল পৌনে ৬টায়। তিনি মিছিলের মাঝামাঝিতে একটি গাড়িতে ছিলেন।

রোববার গণমিছিলে বাধা এবং লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে চার জনের মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার জেলা ও উপজেলায় প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দেন খালেদা। এছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের স্মরণে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল হবে বলে জানান তিনি।

সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এসব কর্মসূচি বাধা দেয়া হলে তার পরিণতি শুভ হবে। আমাদের কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য করবেন না। যেটুকু সময় আপনাদের (সরকার) আছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুুষ্ঠুভাবে চলতে দিন, কথা বলার সুযোগ রাখুন।’

সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে সরকারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিথ্যা কথা বলেন। আমি কখনো ডেডলাইন দিয়ে সরকার পতনের কথা বলিনি। বিএনপি এ ধরনের ডেডলাইনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং আওয়ামী লীগ আমাদের সরকারকে হটাতে ১ মে পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ডেডলাইন দিয়ে ট্রাম্পকার্ডের ঘোষণা দিয়েছিলো। ওই ট্রাম্পকার্ডটি ছিল মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে আনা।’

তিনি বলেন, ‘দেশে সব সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে আমরা নই, আওয়ামী লীগই জড়িত ছিলো। বিএনপি সেনা অভ্যুত্থানে নয়, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা পরিবর্তনে বিশ্বাসী।’ ১৯৭৫ সালে সামরিক শাসনজারি, ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারকে অপসারণ, ১৯৯৬ সালে অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগ ছিল বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সরকার জনগণকে ভয় পাচ্ছে- মন্তব্য করে খালেদা বলেন, ‘তারা তিন বছরে লুটপাট করেছে, মানুষের জন্য কোনো কাজ করে নি। তাই এখন জনগণকে ভয় পাচ্ছে। সেজন্য তারা জনগণের ওপর গুলি চালায়। এভাবে গুলি চালিয়ে জনগণের আন্দোলনকে স্তব্ধ কিংবা ক্ষমতায় থাকা যাবে না। আপনাদের দোসর এরশাদকে জিজ্ঞাসা করুন, সেও ক্ষমতায় থাকতে পারে নি।’

গণমিছিলে অংশ নিতে দুপুর ১২টা থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে নয়া পল্টনে জড়ো হতে থাকে। ফলে কাকরাইল থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে মিছিলে অংশ নেন। অনেকের মাথায় ছিল রঙ-বেরঙের টুপি এবং গায়ে সবুজ রঙের গেঞ্জি। অনেকের হাতে ছিল জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি।

সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, এখন আর প্রতিশোধ নয়, প্রতিবাদ জানাতে হবে। জনগণ জেগে উঠেছে।

আগামীতে ক্ষমতায় গেলে নতুন ‘ধারা’র রাজনীতি চর্চার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার পরামর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করব। নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশকে তাবেদার রাষ্ট্র করতে দেব না।’

গণমিছিলে খালেদা গাড়ি চড়ে অংশ নিলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে হেঁটে অংশ নেন, কেউ কেউ ছিলেন ট্রাকে। মিছিলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গনি, মওদুদ আহমেদ, এক কে আনোয়ার, মাহবুবুর রহমান, মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, সাদেক হোসেন খোকা, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ওসমান ফারুক, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শওকত মাহমুদ প্রমুখ। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মিছিলে জোট শরিক ও সমমনা দলগুলোর নেতারাও যোগ দেন।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, মহানগর সম্পাদক নুরুল ইসলাম বুলবুল, খেলাফত মজলিশের সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, এলডিপি নেতা অলি আহমদ, রেদোয়ান আহমেদ, সাহাদাৎ হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির নেতা আবদুল মালেক চৌধুরী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মূর্তজা, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগ সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খান নেতারা মিছিলে ছিলেন।

গণমিছিলের পথে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে। নয়া পল্টন থেকে শুরু করে মগবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে পুলিশের নজরদারি ছিল। গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে খালেদা ঢাকাসহ সারাদেশের বিভাগ ও জেলা সদরে ২৯ জানুয়ারি গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু একইদিন আওয়ামী লীগও পাল্টা জনসভার ঘোষণা দেওয়ায় ঢাকায় মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশ। এরপর বিএনপি সোমবার কর্মসূচি করবে বলে জানালে আওয়ামী লীগও তাদের অনুসরণ করে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়ালেও কোনো ধরনের গোলযোগ হয় নি।

আজ জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ : আজ জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ ও ৩ ফেব্রুয়ারি জুম্মার নামাজে রোববারের সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার বিকেলে গণমিছিল শুরুর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণ‍া দেন।

পাতাটি ২৮৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন