logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রামেক হাসপাতালে একবছরে ঘণ্টায় একটি শিশুর জন্ম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১১ সালে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে একটি করে শিশু জন্ম নিয়েছে। নিরাপদ সন্তান প্রসবের জন্য এখানে ছুটে আসেন সন্তান সম্ভবা মায়েরা। তবে অপরিণত বয়সে মা হওয়া ও অপুষ্টির কারণে গত বছর এখানে শিশু মৃত্যুর হার ছিলো প্রতি শতাংশে তিনজন। রামেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত অপরিণত বয়সে মা হওয়া নারীরা বেশির ভাগই অপুষ্টিতে ভুগছেন। ফলে তারা জন্ম দিচ্ছেন অপুষ্ট ও কম ওজনের শিশু। অপুষ্ট মেয়ে শিশু একইভাবে আবার মা হচ্ছেন। ফলে মায়ের অপুষ্টি ধারাবাহিকভাবে নারীর গর্ভকালীন ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর রামেক হাসপাতালে শিশু জন্ম হয়েছে ৮ হাজার ৮১২ জন। যা প্রতিঘণ্টায় একজন করে। গত বছর শিশু জন্মের মধ্যে ২৬৪ জন শিশু মারা গেছে। জন্ম নেয়া শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৫ হাজার ২৫৬ জন ও সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৬ জন।

রামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত বছর হাসপাতালে যে সংখ্যক নবজাতক শিশু মারা গেছে এদের বেশিইভাগের মায়েরা ছিলেন অপুষ্টিতে ভোগা ও অপরিণত বয়সে মা হওয়া।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সর্বশেষ (২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের কারণে এখনো কিশোরী মেয়েরা মাতৃত্ব অর্জন করছে ২০ বছরের আগেই। ১৮ বছর হওয়ার আগেই অধিকাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এই বিয়ের বয়স ১২ থেকে ১৪ বছর এবং শহরের বস্তিতে ১৪ থেকে ১৫ বছর।

ইউএনএফপিএ’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ১৬ দশমিক ৯ বছর বয়সি কিশোরীদেরই বাল্যবিবাহের শিকার হতে হচ্ছে বেশি এবং এই বাল্যবিবাহের কারণে ৫০ শতাংশেরও বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীর করুণ মৃত্যু হচ্ছে।

গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালে যেসব রোগী প্রসবের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয় তাদের বেশিরভাগ কারণ অল্প বয়সে মা হওয়া। এ ধরনের রোগীদের মধ্যে যারা শেষ সময় হাসপাতালে ভর্তি হন তাদের বাঁচাতে বেশ বেগ পেতে হয়। শিশু ও মায়ের মৃত্যুর হার কমাতে হলে অবশ্যই বাল্যবিয়ে ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

নিরাপদ মাতৃত্বের আশায় রাজশাহী অঞ্চলের অনেক এলাকা থেকে সন্তান সম্ভবা মা ছুটে আসে রামেক হাসপাতালে। গর্ভবতী মা ও সন্তান প্রসবের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকলেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে রামেক হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছেন করিম। তিনি জানান, সন্তান সম্ভবা নারীদের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের বসবাসের পরিবেশ নেই। দুর্গন্ধে রোগী ও রোগীর স্বজনরা ওয়ার্ডগুলোতে টিকতে পারেন না।

রামেক হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড বয় জানান, রোগী ও রোগীর স্বজনদের কারণেই ওয়ার্ডের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হয়। শিশু ওয়ার্ডগুলো বেশি নষ্ট হয়। এর কারণে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় দিনে দুইবার ওয়ার্ড পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরেও রোগী ও রোগীর স্বজনেরা নিজেদের দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করে ওয়ার্ডের পরিবেশ নষ্ট করে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়লা জেসমিন শিল্পি বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মাঝে আমাদের চিকিৎসা দিয়ে যেতে হচ্ছে। রোগীদের আমরা ঠিকমতো থাকার স্থান দিতে পারি না। ওয়ার্ডের ২২টি বেড থাকলে তার বিপরীতে রোগী থাকে তিনগুণ। এ সমস্যার কারণে ওয়ার্ডে পরিবেশ ঠিক রাখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।’

গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. হাসিনা আকতার বলেন, ‘প্রসব জটিলতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গাইনী সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে অনেক বেশি। এক বেডের পেছনে গড়ে ৩ জনের বেশি রোগী থাকে। আমাদের আরো বেশি ওয়ার্ডের প্রয়োজন। তাহলেই আমরা রোগীদের আরো বেশি চিকিৎসাসেবা দিতে পারবো।’

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মইনুল ইসলাম জানান, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যেতে হচ্ছে। শুধু রামেক হাসপাতালে গত বছর ৮ হাজার ৮১২ জন শিশু জন্ম নেয়াও একটি বড় অর্জন।’

পাতাটি ২৫৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন