logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রেশম কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে সুতার অভাবে \ হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্য
রেশম সুতা শূন্য এখন রেশম নগরী হিসেবে খ্যাত রাজশাহী মহানগরী। সুতার অভাবে ইতিমধ্যে বন্ধ গেছে ৬০টি রেশম কারখানা । যে ক’টি চালু রয়েছে তাও বিশ্ববাজারে সুতার অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধির কারনে সেগুলোও যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে রেশম ব্যবসায়ীরা মনে করেন। রাজশাহীর সেরিকালচারে যে পরিমাণে সুতা উৎপন্ন হয়,তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে ব্যবসায়ীরা জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, কাজাকিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে সুতা আমদানি করে চাহিদা মেটান। কিন্তু এর মধ্যে বেশির দেশ রেশম সুতা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই। শুধু চীন রেশম সুতা রপ্তানি করত। বর্তমানে চীন বস্ত্রখাতে উন্নতিতে নজর দেয়ায় এবং ডলারের দাম বৃদ্ধিতে সুতা আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজশাহী বিসিক শিল্প এলাকাতে ছোট -ুবড় মিলিয়ে মোট ৭২ টি রেশম কারখানা ছিল। এর মধ্যে ৬০টিই বন্ধ হয়ে গেছে সুতার অভাবে। অবশিষ্ট ১২টি কারখানার মধ্যে থেকে আরো কয়েকটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেকোন সময়ে। সপুরা সিল্ক মিলসের ব্যবস্থপনা পরিচালক সদর আলী মনে করেন, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি সুতা ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। একই সাথে প্রতি কেজি দেশীয় সুতার দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যে কিনতে হয়। অথচ অবাধে চোরাই পথে সুতা আমদানি করার কারণে দেশীয় উন্নত মানের সুতার বাজার এখন ধ্বংসের মুখে। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার রেশম বোর্ডের সহযোগিতায় ২৩টি রেশম পল­ীর মাধ্যমে সুতা সংগ্রহ, কুপন তৈরি ও সুতা উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। তবে কবে নাগাত সরকারের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

শিল্প মালিকরা জানান, বেসরকারী উদ্যেগের পাশাপাশি চাষিদের সহজ শর্তে ঋণসুবিধা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি প্রয়োগ, চাষি পর্যায়ে গুটি বিক্রির মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের চাহিদা মত সুতা উৎপাদন করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। এদিকে দেশীয় রেশম চাষিরা সুযোগ-সুবিধার অভাবে কাংক্ষিত পরিমাণ রেশম গুটি উৎপাদন করতে পারছেন না। কারণ হিসেবে প্রান্তিক চাষিরা অপর্যাপ্ত ঋণসুবিধা ও সরকারের অবহেলাকে দায়ী করেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী রেশম বোর্ডের চেয়ারম্যান সমস্যা গুলো স্বীকার করে বলেন যে রেশমের গুটি ও সুতার অভাবে কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় রেশম উৎপাদন হুমকির মুখে রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তা নাহলে রেশম ঐতিহ্যও মসলিনের মত এ দেশ থেকে সত্যি সত্যি কালের গহবরে হারিয়ে যাবে।

পাতাটি ২৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন