logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পপকর্ন বেচে মূলধন গড়তে চান রুস্তম
ছোটবেলা থেকেই সংসারে সচ্ছলতা নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন পেশায় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নগরীর রুস্তম আলী। পড়াশোনা করার ইচ্ছে থাকলেও বাবার সংসারের আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে করতে পারেন নি। অল্প বয়সেই নেমে যেতে হয় তাকে কাজের মধ্যে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো ও খেলাধুলা করার কোনো সুযোগই তিনি পান নি। একটা মুদির দোকান দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখন তিনি নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে পপকর্ন বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন।

৪৪ বছর বয়সি রুস্তম আলীর বাড়ি নগরীর রামচন্দ্রপুর। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার করার যে কী স্বাদ সেটা তিনি কখনো পান নি। তার খুব ইচ্ছে ছিলো পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে পড়াশোনা করার। তিনি জানান, তার সমবয়সি যারা স্কুলে পড়াশোনা করতে যেতো তাদের সঙ্গে তারও স্কুলে যেতে খুব ইচ্ছে করতো। স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করা যেতো। তিনি স্কুলে যেতে চাইলেও তার বাবা স্কুলে যেতে নিষেধ করতেন। তখন তার খুব মন খারাপ হতো। তিনি মনে করেন যদি পড়াশোনা করতে পারতেন তাহলে ভালোভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারতেন।

৭ থেকে ৮ বছর বয়সেই তিনি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে নেমে যান। তখন তার অল্প বয়স হওয়ায় কেউ তাকে কাজে নিতো না। এ কারণে তিনি প্রথমে তার বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন। এরপর একটু বড় হলে আর এ সমস্যা হয় নি। ১০ বছর ধরে কৃষিকাজ করার পর তিনি নগরীতে কুলির কাজ শুরু করেন। এখানে ছয় সাত বছর কাজ করার পর তিনি পিতলের থালাবাসন ফেরি করে বিক্রি করা শুরু করেন। এ পেশাতে পাঁচ ছয় বছর কাজ করার পর তিনি রিকশা চালানো শুরু করেন। শুধু সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি এতো সব পেশা বদল করেছেন। তিনি জানান, সংসারে একটু আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে আসার জন্য অনেক পেশা বদল করে কাজ করেছেন। তার একটাই চিন্তা মূলধন গুছিয়ে একটা মুদির দোকান দেয়ার।

ছোটবেলাতেই কাজের মধ্যে আসায় তিনি কখনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা খেলাধুলা করেন নি। যখন তার চোখের সামনে বন্ধুরা খেলাধুলা করতো তখন তারও খুব ইচ্ছে হতো খেলাধুলা করার। কিন্তু তখনই মনে হতো কাজের কথা। সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ভুলে গিয়ে তিনি কাজের মধ্যে চলে যেতেন। তবে একটা সময়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কয়েকটি সিনেমা দেখেছেন। তার প্রিয় সিনেমার মধ্যে রয়েছে জজ ব্যারিস্টার ও ওমর আকবর। তার তিন ছেলেমেয়ে। বর্তমানে তার একটা ছেলে ও একটা মেয়ে পড়াশোনা করছে। তার ভীষণ ইচ্ছে ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করানোর। তবে তার বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি তাকে মাঝেমধ্যে কাজে সাহায্য করে।

নিজের জীবন সম্পর্কে রুস্তম আলী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই একটা মুুদির দোকান দিয়ে ব্যবসা করার স্বপ্ন রয়েছে আমার। কিন্তু আজ পর্যন্ত মূলধনের অভাবে তা করতে পারি নি। মূলধন গোছানোর জন্য জীবনে অনেক কাজের মধ্যেও নিজেকে নিয়োজিত করেছি। এখন প্রায় দেড় বছর ধরে একবেলা স্কুল আর আরেক বেলা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পপকর্ন বিক্রি করে স্বপ্নে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।’

পাতাটি ২৭৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন