logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে মতবিনিময় সভায় তথ্য : দেশে পারিবারিক সহিংসতায় বছরে ক্ষতি ১৪ হাজার কোটি টাকা
দেশে নারী সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ফলে খোদ পরিবারগুলোকে বড় রকমের আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে। কেয়ার বাংলাদেশ’র করা জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে জাতীয়ভাবে এই ক্ষতির পরিমাণ ১৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। যা জিডিপির শতকরা ২ দশমিক ০৫ ভাগ। একই বছর সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’র করা জরিপ অনুযায়ী ক্ষতির হারটা আরো বেশি, জিডিপির শতকরা ২.৮৬ ভাগ। অথচ আমরা যদি রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে অহেতুক সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়তাম তাহলে এই বিপুল অর্থ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল এবং স্কুল নির্মাণের মতো সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগ করা যেতো। পরিবারগুলোতে বিরাজ করতো শান্তি ও সমৃদ্ধি। গতকাল শনিবার রাজশাহী চেম্বার অ্যান্ড কমার্স মিলনায়তনে কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তুলে ধরা হয় এ তথ্য।

সকাল ১০টায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডি ও রেডিও পদ্মা ৯৯.২ এফএম’র সহযোগিতায় মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেয়ার বাংলাদেশর ল্যানিং অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন ম্যানেজার মারিয়াম-উল-মোতাহারা। ‘বাংলাদেশের সমাজে পারিবারিক সহিংসতার অর্থমূল্য’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দিনাজপুর, সুনামগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার ২৪টি গ্রামের ৪৮৩টি নমুনার ওপর জরিপ করে দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতার কারণে নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। গ্রাম্য সালিশ, জেলা পর্যায়ের আদালতে যাতায়াত, খাওয়া খরচসহ নানা কারণে পরিবারপ্রতি ১১ হাজার ৯৭৬ টাকা হিসাবে মোট ৫৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। সহিংসতার শিকার নারী ও তাদের পরিবারের উপার্জনের ক্ষতি হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা। একইসঙ্গে অপরাধী পুরুষ এবং তাদের পরিবারের উপার্জনের ক্ষতি হয়েছে ১১ লাখ ৭ হাজার টাকারও বেশি।

ইউএসএইড’র আর্থিক সহযোগিতায় ‘নারীর প্রতি সহিংসতার অর্থমূল্য’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ অধ্যাপক জিনাতুন নেছা তালুকদার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক শাতিল সিরাজ, সিসিডির পরিচালক গোলাম মুরতুজা, দৈনিক সানশাইনের সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুল, রাজশাহী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান, রাবি মহিলা পরিষদের সভাপতি তানজিমা ইয়াসমিন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া, রাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক ড. রোজেটি নাজনীন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, অ্যাড. নাসরিন আকতার মিতা প্রমুখ।

পাতাটি ২৫৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন