logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ : প্রয়োজনে বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করতে সচেষ্ট থাকতে হবে কর্তৃপক্ষকে
রক্তদান একটি মহৎ কাজ। অনেকে রক্ত দান করেও, কিন্তু তাদের দেয়া রক্ত কতটা বিশুদ্ধ বা ভেজালমুক্ত, সেটাই ভাববার বিষয়। দেখা যায়, যারা মাদকসেবক তারাই এ কাজে বেশি আগ্রহী। রক্ত বেচা টাকা দিয়ে মাদক কিনে নেশা চালায় বেশিরভাগ মাদকসেবক। এজন্য প্রয়োজনে ভেজালমুক্ত রক্ত পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে যায় সাধারণ মানুষের জন্য। প্রয়োজন অনুযায়ী ভেজালমুক্ত রক্ত পাওয়ার কথা বিবেচনা করে মানবসেবায় এগিয়ে আসতে নগরীতে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী সিটি ইউনিট। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি আর্থিক অনুদান দিতে চেয়েছে। আমরা তাদের মহৎ কাজে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাধুবাদ জানাই। ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের মধ্য দিয়ে নগরীতে রক্তের চাহিদা প্রয়োজন অনুসারে মেটানো সম্ভব বলে আমরা আশাবাদী।
আগামী ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে ব্লাড ব্যাংক উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছেন রাসিক মেয়র। ব্লাড ব্যাংক স্থাপনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগরীর হেতম খাঁ এলাকায় একটি ভবন দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তি ৩০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। রাসিক মেয়র রেড ক্রিসেন্ট সিটি ইউনিটের কাছে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের জন্য প্রদানকৃত ভবনের চাবি হস্তান্তর করেছেন। রাজশাহী মেডিকেলে ব্লাড ব্যাংক থাকলেও সেখানে রক্ত পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর কোনোভাবে রক্ত যোগাড় করতে পারলেও তা কতটুকু ভেজালমুক্ত সেটা নিয়েও নানা সংশয় রয়েছে। ভেজাল রক্তে প্রয়োজনীয় রক্তকণিকা থাকে না। এছাড়া পাঁচটি সংক্রামক রোগের উপাদান যেমন এইডস, হেপাটাইটিস এ ও বি, ম্যালেরিয়া এবং সিফিলিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। শুধু রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা এবং ক্রসম্যাচিং করে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হচ্ছে অনিরীক্ষিত রক্ত। ভেজাল রক্ত গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে সুস্থ হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রক্তগ্রহণকারীকে। আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় রক্তের একটি বড় অংশই আসে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আর পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের অধিকাংশই সিফিলিস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি বা এইডসে আক্রান্ত। ফলে এই দূষিত রক্ত পরিসঞ্চালিত হয়ে রক্তগ্রহীতাও প্রায়শই আক্রান্ত হন দুরারোগ্য ব্যাধিতে। দূষিত রক্তের অভিশাপ থেকে মুমূর্ষু মানুষকে রক্ষা করার জন্যে নিরাপদ ও সুস্থ রক্তের প্রয়োজনীয়তা এখন সচেতন মানুষ বুঝতে পেরেছেন। নগরীতে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রয়োজন অনুসারে সাধারণ মানুষ বিশুদ্ধ রক্ত পাবে, এটাই প্রত্যাশা।

পাতাটি ২৫৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন