logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীর ইউনিয়ন তথ্যসেবা নিয়ে হতাশা : হাল ফেরাতে হবে ৬ মাসের মধ্যে, নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
রাজশাহী জেলার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের (ইউআইএসসি) সেবা ও কার্যক্রমকে গতিশীল করার তাগিদ দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। গতকাল বুধবার নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত রাজশাহী জেলার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ তাগিদ দেন। রাজশাহী জেলার তথ্য ও সেবাকেন্দ্রে কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাজশাহী জেলার ইউআইএসসি’র পরিবর্তন দেখতে চান প্রতিমন্ত্রী। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আগামী তিনমাসের মধ্যে কার্যক্রমকে গতিশীল করার অঙ্গীকার করেন।

রাজশাহী জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও ইউআইএসসি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সিনিয়র কনসালটেন্ট মানিক মাহমুদ। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. সানাউল্লাহ।

কর্মশালায় রাজশাহী জেলার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তুলে ধরা হয় রাজশাহীর ইউআইএসসি’র বিভিন্ন পরিসংখ্যান। গত মাসে রাজশাহী জেলার ইউআইএসসিগুলোতে ২ হাজার ৫১৭ জন মানুষ সেবাগ্রহণ করেছে যা প্রতিটি ইউআইএসসি হিসেবে মাত্র ৪৭ জন। ইউআইএসসি’র সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মতামত দেন আলোচকরা। প্রান্তিক মানুষকে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের আওতায় কিভাবে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও উদ্যোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় কর্মশালায়। জেলার ইউআইএসসিগুলোতে বর্তমানে যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘রাজশাহী জেলার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর বর্তমান চিত্র খুবই খারাপ। এ চিত্র দেখে আমি খুব হতাশ হয়েছি। তবে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে এ অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়তে চান। সাধারণ মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে চান। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবদের। বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে একমাত্র প্রযুক্তিই পারে দেশের দারিদ্য খুব সহজে দূর করতে।’

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান আরো বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পেতে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারের সঙ্গে মেলাতে হবে হিউম্যানওয়্যারকে। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সুফল আমরা পাবো না। এ জন্য ইউআইএসসি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে। আজ যা নতুন কাল তা পুরাতন হয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে সবসময় তথ্যপ্রযুক্তির সাম্প্রতিক বিষয়ের সঙ্গে আপডেট থাকতে হবে।’

প্রবীণ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দুই প্রজন্মের মানুষকে মেলাতে হবে। প্রবীণদের উচিত হবে সুদ, ঘুষ, অন্যায় ও দুর্নীতিমুক্ত জীবনযাপন করে নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ রেখে যাওয়া। নবীনরা যেন সেই আদর্শকে অনুসরণ করে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে দেশের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারে।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার মানুষ যা কিছু ছিলো তাই নিয়ে যুদ্ধ করেছে। আসুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করি। জনগণের সেবা নিশ্চিত করি।’ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি জ্ঞানভিত্তিক মধ্য আয়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং তার সুফল বাংলার প্রতিটি জনগণ পাবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে আন্তরিক রয়েছেন। আমাদেরকে মনযোগ দিতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর দেশ গড়তে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রযুক্তি সৈনিকের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবদুল হান্নান বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমে এমন একদিন আসবে যে দিন মানুষকে সেবার জন্য ঘুরে বেড়াতে হবে না, সেবাই মানুষকে খুঁজে নেবে।’ এজন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্য রাজশাহী জেলার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের সমস্যা সমাধান করে সঠিক সেবা প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

পাতাটি ২৪৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন