logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ব্যবসায় সফলতা পেতে নিরলস পরিশ্রম যার
জীবনের মোড় পরিবর্তনের জন্য অনেক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন নগরীর হুমায়ন কবির। ছোটবেলায় পড়াশোনা করে চাকরি করার ইচ্ছে থাকলেও বাবার অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে সেই ইচ্ছে পূরণ হয় নি। দীর্ঘদিন চটপটির ব্যবসা করার পর তিনি সম্প্রতি ভাপা পিঠা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছেন। ছেলেমেয়েকে মানুষ করার পাশাপাশি সংসারের সচ্ছলতা আনার জন্য এখন তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এছাড়া তার একটি স্থায়ী দোকান দিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছেও রয়েছে।
৩৬ বছর বয়সি হুমায়ন কবিরের বাসা নগরীর শ্রীরামপুরে। বাবার সংসারের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক কষ্ট করে পাড়ার সঙ্গীদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু বেশিদূর তিনি পড়াশোনা করতে পারেন নি। তৃতীয় শ্রেণিতেই থেমে যায় তার পড়াশোনার যাত্রা। তিনি জানান, পড়াশোনা করে চাকরি করার ইচ্ছে ছিলো। পড়ার সময়ে অনেক ভালো সময় কেটেছে তার। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলাসহ প্রতিযোগিতা করে পড়াশোনা করতেন। এছাড়া সেই সময়ে অনেকটা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার একটা সুযোগ ছিলো। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ে বাবার সংসারের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কাজের সন্ধানে নেমে যেতে হয়। তিনি মনে করেন আর একটু বেশি পড়াশোনা করতে পারলে হয়তো একটা চাকরির জন্য আবেদন করা যেতো। কিন্তু কপালে তা আর সইলো না।
পড়াশোনা বন্ধ করে তিনি নগরীতে বিভিন্ন স্থায়ী কাজের খোঁজে নেমে পড়েন। কিন্তু সেই সময়ে তেমন কোনো ভালো স্থায়ী কাজের সন্ধান না পেয়ে তিনি কুলির কাজ শুরু করেন। তিনি কুলির কাজ করার পাশাপাশি অন্য পেশায় কাজ করার চেষ্টাও করতে থাকেন। কিছুদিন এ পেশায় কাজ করার পর তিনি অন্যের বাড়িতে কৃষিকাজ করা শুরু করেন। এখানে তেমন কোনো ভালো ভবিষ্যৎ তিনি দেখতে না পেয়ে কিছুদিন নৌকায় বালু বহনের কাজে নেমে পড়েন। এরপর তিনি চটপটির ব্যবসা পছন্দ করে কাজ শুরু করেন। এ পেশায় তিনি ১০ বছর ধরে আছেন। তবে এখন ভালো ব্যবসা না হওয়ায় তিনি গত কয়েক দিন হলো ভাপা পিঠা বিক্রি করা শুরু করছেন। তিনি নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এখন ভাঁপা পিঠা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরে আছেন। তবে তিনি ভাপা পিঠা বিক্রি কিছুদিন করার পর আবার চটপটি বিক্রি করা শুরু করবেন। তিনি জানান, ফেরি করে এসব ব্যবসা করতে গিয়ে অনেক রকম সমস্যা হয়। বিশেষ করে যখন ঝর বৃষ্টি হয়। আবার প্রখর রোদেও অনেক সময় সমস্যা হয়।
খেলাধুলার প্রতি দারুণ ঝোক ছিলো হুমায়ন কবিরের। কিন্তু ছোটবেলাতেই বাবার সংসারের হাল ধরতে হয় বলে তিনি খেলাধুলা করার কোনো সুযোগ পান নি। সিনেমা বা নাটক নিয়মিত দেখেন না তিনি। তবে মাঝে মধ্যে টেলিভিশনে তিনি নাটক বা সিনেমা দেখেন। এছাড়া মাঝে মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে আগে আড্ডা দেয়া হতো তার। এখন আর কোনো দিকে মনোযোগ তিনি দিতে পারেন না। ছেলেমেয়েদেরকে মানুষ করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে চান। নিজের জীবন সম্পর্কে হুমায়ন কবির বলেন, ‘অনেক সংগ্রামের মধ্যে জীবনযাপন করছি। এক সময়ে পড়াশোনা করে চাকরি করার স্বপ্ন ছিলো। এরপর ভালো আয়ের জন্য অনেক পেশা বদল করেছি। এরপর ১০ বছর ধরে চটপটি বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করছি। কিন্তু চটপটির ভালো ব্যবসা না হওয়ায় গত কয়েক দিন হলো ভাপা পিঠা বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করছি। তবে এ পেশায় না থেকে চটপটির ব্যবসাই করতে চাই।’

পাতাটি ৪১৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন