logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo তিন বছরে রাসিকে চারশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন
গত তিন বছরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রায় চারশত কোটির টাকার ছয়টি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে দেশের সর্বাধিক সমৃদ্ধ মহানগরীর হিসেবে রাজশাহীকে গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
রাসিক সুত্রে জানা গেছে, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে রাসিকের বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত চারশত কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও চলমান রয়েছে বেশ কয়েকটির কাজ। একই সাথে আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এ প্রকল্পগুলির মধ্যে ৫১ কোটি ৭৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়াস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ৫২ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকার সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভৌত অবকাঠামো, ড্রেনেজ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষের পথে। ৭৮ কোটি ৮১ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে অনগ্রসর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৭৯ হাজার টাকার সিটি ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ (২য় পর্যায়) শুরু হতে চলেছে। ৭২ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার টাকার উপশহর মোড় হতে মালোপাড়া মোড় হয়ে সোনাদিঘি মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। ১২২ কোটি ৯১ লাখ ২১ হাজার টাকার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক হতে মেহেরচন্ডী বুধপাড়া হয়ে রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এ সড়কে একটি ফ্লাইওভারও থাকবে। ২৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কসমূহের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পের কাজও সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প, বিএমডিএফ, থোক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন স্কীমের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সড়ক আলোকায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে।
এছাড়াও পিপিপির মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব জমিতে ১টি ক্লিনিকসহ ১৫টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করবে। ইতোমধ্যেই সিটি সেন্টার, দারুচিনি প্ল¬াজা ও স্বপ্নচূড়া প্ল¬াজার কাজ এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্মীপুরে ৮ দশমিক ৯ কাঠা জমির উপরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট সিটি হেলথ ক্লিনিক ও সাহেববাজারে ৩ দশমিক ১২ কাঠা জমির উপরে সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট বৈশাখী বাজার, আরডিএ মার্কেটের পার্শ্বে ৬ দশমিক ৪ কাঠা জমির উপরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা বিশিষ্ট শাপলা সুপার মার্কেট, শালবাগানে ৪৭ দশমিক ৫৯ কাঠা জমির উপরে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা শালবন সুপার মার্কেট, হড়গ্রাম বাজারে ২০ কাঠা জমির উপরে নির্মিত দ্বিতল বাজারের উপরে ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তৃতীয় তলা নির্মাণ, সিটি বাইপাসের পার্শ্বে ৪৫ দশমিক ৭৪ কাঠা জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বাইপাশ সুপার মার্কেট এবং নওদাপাড়ায় ৪৫ দশমিক ৪৫ কাঠা জমির উপর ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা চৈতালী সুপার মার্কেট, নতুন বিলসিমলায় রেলওয়ে ক্রসিং এর কাছে ৩ দশমিক ৫৫ কাঠা জমির উপর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট সিমলা সুপার মার্কেট নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলছে। এগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করতে ১ থেকে ৩ বছর সময় লাগবে এছাড়াও আরো কয়েকটি প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গত তিন বছরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনে প্রায় চারশত কোটির টাকার ছয়টি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে দেশের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ও সুন্দর মহানগরীর হিসেবে রাজশাহীকে গড়ে তুলতে চায়। এজন্য মহানগরবাসী যে সহযোগিতা দিয়েছে তা অব্যহত থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাতাটি ২৪৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন