logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo চলতি বছর রাজশাহীতে ৫১ হত্যাকান্ড
চলতি বছরে রাজশাহীতে ৫১ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জমিজমা, পরকীয়া, যৌতুক, খেলাধুলা ও পূর্ব শত্র“তার জের ধরে এসব খুনের ঘটনা ঘটে। নগরীর লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী আমিনুল হক, রাসেল ও গোদাগাড়ীর আদিবাসী যুবতি ও পবার গৃহবধূ খুনের ঘটনা রাজশাহীতে বেশী আলোচিত হয়। এসব চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাগুলোর চার্জশিট এখনো দিতে পারেনি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে যে ৫১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এর মধ্যে রয়েছে মহানগরীর ৪ থানায় ১৮টি ও জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৩টি। মহানগর পুলিশের তথ্য মতে, গত জানুয়ারী, ফেব্র“য়ারী, মার্চ ও জুলাই মাসে কোন হত্যাকান্ড নেই। তবে এপ্রিলে ২, মে মাসে ১টি, জুন মাসে ২টি, আগষ্টে ৩টি, সেপ্টেম্বরে ২টি, অক্টোবর মাসে ৩টি, নভেম্বরে ২টি ও ডিসেম্বরে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ব্যবসায়ী আমিনুল হকের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি।
গত ১২ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে আলুপট্টি এলাকার সারোয়ার হোসেনের ভাড়া বাসায় ব্যবসায়ী আমিনুলকে অপহরণের পর জবাই করে হত্যা করা হয়। তিনদিন পর পুলিশ নিহত আমিনুল হকের ৯ টুকরা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। এটি রাজশাহীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় পুলিশ সারোয়ার ও তার দোকানের কর্মচারী হাকিমকে ৯ টুকরো লাশসহ গ্রেফতার করে। দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর শেষ পর্যন্ত খুনি সারোয়ারের স্ত্রী নার্গিস ১০ মে ঢাকার সুত্রাপুর থানায় আত্মসমর্পণ করে। এই হত্যাকান্ডের পর অপরাধীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে রাজশাহীতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমিনুল হকের হত্যাকাণ্ড রাজশাহীর ইতিহাসে জঘন্যতম একটি ঘটনা। ব্যবসায়ী রাসেলকে হত্যার পর মাটিতে পুতে ঢালাই করে দেয়া রাজশাহীর ইতিহাসে আর একটি নজিরবিহীন ঘটনা। গত ২১ এপ্রিল অপহরণের ১৮ দিন পরে র‌্যাবের একটি দল রামেক হাসপাতালের চারু মামার ক্যান্টিনের পেছনে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী রাসেলের লাশ উদ্ধার করে। রাসেলকে অপহরণের পর ফেনসিডিলের মধ্যে ঘুমের ওষুখ খাইয়ে নিস্তেজ করে এ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ ড্রেনে পুতে সিমেন্ট বালি দিয়ে ঢালাই করে তার উপর কচুর গাছ লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের ছাত্র জ্যোতির্ময় সরকার জয়কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী একই কলেজ ও বর্ষের ছাত্র সাব্বির হোসেন এখনো পলাতক রয়েছে। ব্যবসায়ী আমিনুল ও ব্যবসায়ী রাসেল নৃশংস হত্যার পর রাজশাহী মহানগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরীতে একের পর এক খুনে বেসামাল হয়ে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল থাকায় মামলাগুলোর তদন্তের গতি খুবই মন্থর।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ১০ জুলাই গোদাগাড়ী শিমুলতলী গ্রামে মরিয়ম মুরমু নামের এক উপজাতি বিধবা মহিলাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার বিবস্ত্র লাশ গাছের সাথে বেঁধে রাখার ঘটনাটি।
সূত্রমতে, এবছর জেলায় খুনের মামলা হয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে এপর্যন্ত ১১ টি মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। ২টির চূড়ান্ত রিপোর্ট ও বাকী মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। ৯টি উপজেলায় গত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ২ হাজার ২শ’ ১৫টি। এর মধ্যে বিচারাধীন রয়েছে ১৮শ’ টি। বিচার হয়ে যাওয়া মামলার মধ্যে ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে, এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ১১জন।
গত জানুয়ারী থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা ও মহানগরীতে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে গত ২৪ নভেম্বর তানোরে পিতার সামনে ৪ বছরের এক শিশু ফাহমিদাকে কুপিয়ে হত্যা, ২২ ডিসেম্বর পুঠিয়া তারাপুর গ্রামের নূর ইসলাম, ১৫ ডিসেম্বর পুঠিয়া জায়গিরপাড়া গ্রামের নাসিরের পুত্র আলম এবং একই গ্রামের ভাদুর কন্যা সাহারা, ৮ ডিসেম্বর নগরীর মতিহারে ক্লিনিকের আয়া নার্গিস, ৪ ডিসেম্বর নগরীর রাজপাড়া বুলনপুরে রোকন, ১১ নভেম্বর মাদরাসা ছাত্র ইলিয়াস হোসেন মিন্টু, ২৯ নভেম্বর দুর্গাপুরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি, ২৪ নভেম্বর নগরীর গৌরহাঙ্গা মসজিদের পেছনে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি, ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী ভাটুপাড়া গ্রাম তাজমহল, ২২ অক্টোবর পদ্মা নদীর চরে ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম, ২৯ অক্টোবর রাজপাড়া থানার কোর্ট যাত্রী ছাউনির পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি, ১৫ অক্টোবর নগরীর মতিহার এলাকায় অজ্ঞাত যুবতি, ৫ সেপ্টেম্বর হাতেম আলী, ২০ সেপ্টেম্বর নগরীর খুলিপাড়ায় আলীগ নেতা পিন্টু, ২১ সেপ্টেম্বর চারঘাটে প্রতিবন্ধী যুবক শহিদ আলী, একই দিনে পুঠিয়ার ধোকড়াকুল এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি, ২৯ সেপ্টেম্বর ডাঙাপাড়া বিলে টুটুল, ৬ আগস্ট আরিফুল ইসলাম, মোহনপুর কালিগ্রাম গ্রামে ১১ আগষ্ট সাথী, ১৪ জুলাই ছোটবনগ্রামে সুমন, ১৪ জুন কোর্ট হড়গ্রাম বাজার এলাকায় আব্দুল কুদ্দুস, ১৪ মে রাজশাহী মহানগরীর খড়খড়ি এলাকায় দুষ্কুতকারীদের হাতে খুন হয় অটো চালক নাদিম, ২ মে গোদাগাড়ী বড়দমা গ্রামে রফিকুল ইসলাম, ১০ এপ্রিল বালিয়াপুকুর খাসপাড়া এলাকায় নুরা আলী, ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মেহেরচণ্ডী এলাকায় আব্দুল কাশেম, একই দিনে লক্ষ্মীপুর এলাকার হোটেল আল-নুর’-এ নিহত হয় বোর্ডার সিহাবুল, ১৫ এপ্রিল দুর্গাপুর গোপীনাথ পুর খাসখামার গ্রামের আঞ্জুরা, ১৯ মার্চ বাগমারা পানিয়া নরদাস গ্রামের জামাল, ৬ ফেব্র“য়ারী বাগমারা মোহাম্মদপুর গ্রামের মেরি আক্তার, ২৪ ফেব্র“য়ারী গোদাগাড়ীর নুন্দাপুরে আক্কাস, ১৯ জানুয়ারী দুর্গাপুর নামদুরখালি গ্রামের পার্থ। রাজশাহীতে সারা বছর যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার ৪৫ ভাগই গুপ্ত হত্যা। এসব গুপ্তহত্যাসহ অধিকাংশ হত্যাকান্ডের কোন কুল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

পাতাটি ৩৫৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন