logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে চিকিৎসার নামে প্রতারণা
সরকারি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাজশাহীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলোর অধিকাংশই সাইনবোর্ড-সর্বস্ব। হাতেগোনা দুই-একটি ছাড়া এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও অবকাঠামো। প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে দিনের পর দিন এগুলোতে প্রতারণা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা দালাল নিয়োগ করে অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এদের খপ্পরে পড়ে সাধ্যের বাইরে চিকিৎসা ফি দিতে গিয়ে প্রতিদিন শত শত সহজ-সরল মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে। যে রোগের চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে ছুটে আসে, সেই রোগ আবার সঙ্গে করেই বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
রাজশাহী নগরীর চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে নাগরিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলনে নামছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তাঁরা জানান, সম্প্রতি রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে নগরীর চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাস্তার দক্ষিণ পাশে এবং হাসপাতালের পশ্চিম পাশে লক্ষ্মীপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে আরো অন্তত ২০টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সবগুলোতেই টানানো আছে বড় বড় সাইনবোর্ড। আছে বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের নামের তালিকা। এর মধ্যে দুই-একটি ছাড়া অধিকাংশই সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করছে না। কোনো কোনোটির কার্যক্রম চলছে অস্বাস্থ্যকর ছোট ছোট খুপরি ঘরে।
সরল বিশ্বাসে প্রতিদিন শত শত রোগী এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসে এবং প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. মহিবুল হাসান।
তিনি বলেন, 'রাজশাহী নগরীতে যে হারে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে, সেই হারে চিকিৎসার মান উন্নত হয়নি। বরং এসবের মাধ্যমে রোগীদের প্রতারণার মাত্রা বেড়েছে।'

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইনবোর্ড-সর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা দালাল নিয়োগ করেছে। এদের মধ্যে রিকশাচালক থেকে শুরু করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীও আছে। রোগী আনার বিনিময়ে তাদের কমিশন দেওয়া হয়। দালালরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে, নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায়, শিরোইল বাস টার্মিনালে, সাহেববাজার এলাকায় ওত পেতে থাকে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বা ভালো মানের ক্লিনিক ও ডায়াগানস্টিক সেন্টারে আসা গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে তারা ওইসব নামসর্বস্ব কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা, ছবি তোলা ও অস্ত্রোপচারের কথা বলে হাজার হাজার টাকা ফি আদায় করা হয়। এই ফি-র ৩০ শতাংশ পায় দালালরা।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, যেসব চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়, তাদের অধিকাংশই ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত নয় বা সেখানে সেবা দেয় না। কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসকের নামের আগে-পেছনে জুড়ে দেওয়া থাকে দেশ-বিদেশের ডিগ্রি। এই অদক্ষ চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন শহিদুল ইসলাম বলেন, 'আমরা এগুলো বন্ধ করার জন্য বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি এবং কোনো কোনোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিন পর আবারও সেগুলো খোলা হয়।'
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এর আশপাশে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসার নামে চলছে নানাভাবে প্রতারণা। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে এসব চিকিৎসা কেন্দ্র।
নাগরিক আন্দোলনের এই নেতা বলেন, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন তাঁরা। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

পাতাটি ২৭৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন