logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন চলছে
সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি এবং আইন প্রণয়ন করেও রাজশাহীতে পদ্মা নদী থেকে বালু তোলা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এক জায়গায় বন্ধ করা হলে অন্য জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙছে। হুমকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। কিছুদিন ধরে রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলায় নদীর পাড় ভেঙে ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি ক্যাম্পসহ শতাধিক পরিবার।

এর আগে কয়েকজন শ্রীরামপুর মৌজার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের দক্ষিণ পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছ থেকে পদ্মা নদী বালু উত্তোলন করছিল। এ নিয়ে ১১ নভেম্বর প্রথম আলোতে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রশাসন পরদিন ওই এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করে দেয়। এখন নতুন করে চারঘাট উপজেলার সাহাপুর বিজিবি ক্যাম্পের নিচে পদ্মা নদী থেকে ২০-২৫ দিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে।
চারঘাটের বেলঘরিয়া গ্রামের শফিউল আলম বলেন, বালু তোলায় নদীর পাড় ভেঙে মাঝি আবদুস সালাম, কৃষক পলান উদ্দিন ও আকসেদ আলী এবং দিনমজুর বাদশার বাড়ি ধসে পড়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদের কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পেয়ে আবু সাঈদ চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বজলুর রশীদকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বালু তোলা বন্ধ করে দেন। তারা নৌকা নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এর দু-তিন দিন পরে তারা আবার এসে একইভাবে বালু তোলা শুরু করে। কে বালু তোলার নির্দেশ দিয়েছে—বালু তোলার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তা জানা যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাঝি বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা টাঙন গ্রামের আরিফুল ইসলাম এই কাজের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালু তোলার কথা অস্বীকার করেন। চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বলেন, তিনি বন্ধ করে দিয়ে আসার পর আবার সেখানে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, গত ১৬ নভেম্বর রাজশাহী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তারা এই অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর তাদের পক্ষ থেকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী জেলার কোনো নদী বা বালুমহাল বালু উত্তোলনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এই অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু তোলার ফলে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১১ ধারা মোতাবেক ইজারা গ্রহণ ছাড়া বালু উত্তোলন, পরিবহন, বিপণন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এর পরও বালু তোলা বন্ধ হয়নি—এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল হান্নান জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি, তবে তিনি লোকমুখে শুনছেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাতাটি ২৬৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন