logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীর ৯ নং ওয়ার্ড রাস্তার উপর গরুর গোয়াল ড্রেনের ভেতর আবর্জনা
নগরীর ৯নং ওয়ার্ডের অধিন পাঠানপাড়ায় (কশাইপাড়া) ড্রেনগুলো ভরে থাকে খড়কুটা-আর আবর্জনায়। এলাকার মানুষই ড্রেনের ভেতর ফেলে রাখেন আবর্জনা। যার কারণে ড্রেনগুলোতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তার পরও এলাকাবাসীর অভিযোগ ড্রেন পরিষ্কার হয়না নিয়মিত। ড্রেনের এই অবস’া প্রত্যক্ষ করা গেছে কশাইপাড়া এলাকায় জামেয়া ইসলামিয়া শাহমখদুম মাদ্রাসার পাশ দিয়ে কেন্দ্রিয় ঈদগাহ পর্যন্ত পদ্মানদী সংলগ্ন সড়কের ড্রেনে। এলাকার কতিপয় মানুষ যারা মাংসের ব্যবসা করেন তারা রাস্তার উপরই বেঁধে রেখেছেন গরু-ছাগল। পুরো রাস্তাটাই যেন একটা গরুর গোয়ালে পরিণত হয়েছে। এই কারণে রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় রাস্তার উপর বেঁধে রাখা গরুকে যে আউড় খেতে দেয়া হয় সেই আউড়ের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলা হয় ড্রেনের ভেতর। এ ছাড়াও গরুর গোবর, ময়লা আবর্জনা সবই ফেলা হয় ড্রেনের ভেতর। এই অবস’া পাঠানপাড়া এলাকার পদ্মানদী সংলগ্ন রাস্তার পাসে ড্রেনে এবং পাঠানপাড়ার বিভিন্ন গলির ভেতর ড্রেন গুলোতে। এ সব কারণে ড্রেন গুলোতে জমে থাকে আবর্জনা। ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বাবলু এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ড্রেন পরিস্কার না হওয়ার অভিযোগ করেন এলাকার মানুষ। তবে এই সমস্যাটি এলাকার মানুষেরই তৈরি করা। ওই এলাকার ড্রেন গুলো পরিস্কার করা খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, রাস্তার উপর গরু বেঁধে রাখার কারণে মানুষের চলাচলে খুবই অসুবিধা হয়। কাউন্সিলর হিসেবে আমি নিজে এলাকার মানুষকে রাস্তার উপর থেকে গরু সরাতে বলেছি এবং ড্রেনের ভেতর আবর্জনা না ফেলার জন্য অনুরোধ করেছি।
পাঠানপাড়া এলাকাতেও পদ্মা নদীর ধার সংলগ্ন সড়কে বেঁধে রাখা হয় গরু-ছাগল এবং যত্রতত্র ফেলে রাখা হয় নির্মাণ সামগ্রি। এই কারণে অনেকে গাড়ি, রিক্সা ইত্যাদি বাহন নিয়ে ওই সড়কে চলাচল করতে পারেন না। এলাকার বড় ড্রেনগুলোর পাশে যেসব বাড়ি রয়েছে সে সব প্রত্যেকটা বাড়ির সামনে বাড়ির মালিকরা বড় বড় স্লাব বসিয়েছেন। এটাও সটিকভাবে ড্রেন পরিস্কার না হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। নগরীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড ৯নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের ভেতরেই রয়েছে হযরত শাহমখদুম, শাহনুর ও শাহ তুরকান (রহ:) এর মাজার শরীফ। প্রতিদিন বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনেক ভক্ত ও মুসল্লী মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসেন। এই ওয়ার্ডটিতেও রয়েছে বহুবিধ সমস্যা। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বাবলুর মতে ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এলাকাকে মাদকমুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলাম। হয়তো আমি সফল হতে পারিনি। কিন’ তাই বলে আমি আশা ছাড়িনি। মাদক নির্মূলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যায়না। টিবি ক্লিনিকের পাশে হোসনীগঞ্জের গলি জুড়ে মাদকের বিস্তার। এছাড়াও পাঠানপাড়া, দরগাপাড়া, হোসেনেগিঞ্জের বিভিন্ন গলিতে মাদকের কেনা-বেচা চলে। সদর হাসপাতালের মোড়ে (টিবি ক্লিনিক সংলগ্ন মোড়ে) প্রকাশ্যে চলে মাদকের কেনা বেচা। এলাকার মানুষ এসব অভিযোগ করেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ মাদকের কারণেই পাঠানপাড়া, হোসেনিগঞ্জ ও দরগাপাড়া এলাকায় ছিঁচকে চোরের উপদ্রব বেড়েছে। পাঠানপাড়া শহীদ কামারুজ্জামান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলে মাদক সেবন আর জুয়ার আসর। জুয়ার আসর বসে পদ্মানদীর বাঁধের উপর। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটেরও সমস্যা রয়েছে। অনেক রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্তের। এই কারণেই রাস্তাগুলো ঝুকিপূর্ণ হয়ে আছে। হোসনিগঞ্জের কোন কোন গলি রাস্তায় বৃষ্টি হলে কাদাপানি জমে। ফায়ারবিগেড মোড় থেকে পদ্মা নদীর ধারে যাবার রাস্তাটি মেরামতের জন্য খুড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাচলের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ওই রাস্তাটির আরো একটা বড় সমস্যা হচ্ছে ওই রাস্তাদিয়ে দিনের বেলা বেপরোয়াভাবে চলাচল করে বালি বাহি ট্রাক। নিয়ে যাওয়া হয় গরু। এলাকার মানুষ ড্রেন প্রসঙ্গে বলেছেন, এলাকার অনেক ড্রেন খুবই চিকন। এটা বড় হওয়া দরকার। গ্যাসের লাইন স’াপনের জন্য কিছুদিন আগে রাস্তা খোঁড়া খুঁড়ির পর সেখানে মাটি চাপা দেয়া হলেও মাটিটা ভালো ভাবে বসিয়ে দেয়া হয়নি। এলাকার কয়েকজন জানান, এলাকায় তালাক এবং পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে একটু বেশি। দরগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অ্যাড: কায়সার রহমান নাইজার এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ৯নং ওয়ার্ডের পার্শ্বেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল, মাদ্রাসা হাইস্কুল, লোকনাথ হাই স্কুল ও মেডিকেল কলেজ। সেই দিক থেকে ৯নং ওয়ার্ডের মানুষের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা আরো বেশি হওয়া উচিত ছিলো। অবশ্য এখন এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অনেক শিক্ষিত মানুষ বের হচ্ছে এলাকা থেকে। যারা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানও রাখছেন। ওয়ার্ডের পাশেই কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন শাহ মখদুম ইন্সটিটিউট লাইব্রেরি রয়েছে। এটা নিয়ে গর্ব করতে পারে এলাকার মানুষ। অ্যাড: কায়সার রহমান জানান, দরগাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন অনেকটাই ধ্বংসের পথে। তিনি এই বিদ্যালয়টি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নগরীর পাঠানপাড়া, দরগাপাড়া, হোসেনিগঞ্জ, শেখপাড়া, সেরুসারপাড়া (প্রফেসরপাড়া) নিয়ে গঠিত ৯নং ওয়ার্ড। যার লোকসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বাবলু জানিয়েছেন, গত ঈদের আগে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের উপর প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে স্লাব নির্মাণ করে বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তাঘাট সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। টুকটাক কাজও হচ্ছে। তবে পুরো কাজ এখনো শুরু হয়নি।

পাতাটি ৩১১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন