logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পালিয়েছেন গাদ্দাফি : লিবিয়া বিদ্রোহীদের দখলে
লিবিয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি অবশেষে পালিয়েছেন। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন কেউই বলতে পারছে না। এমতাবস’ায় লিবিয়ার পুরো কর্তৃত্ব এখন বিদ্রোহীদের দখলে। আন-র্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকালে আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইভান হিল জানান, সকাল থেকেই কম্পাউন্ডের মধ্যে ভারী গোলাগুলি, বিস্ফোরণ ও রকেট নিক্ষেপের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভবত কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে বিদ্রোহীরাই রকেট ছুড়ছে।
প্রায় ছয় বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বিশাল ওই কম্পাউন্ডের মধ্যে আছে গাদ্দাফির প্রধান বাসভবন, সামরিক দপ্তর, সেনাবাহিনীর ব্যারাক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয়। কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স’ানের সঙ্গে একাধিক গোপন সুড়ঙ্গ আছে। কেউ কেউ বলছেন, গাদ্দাফি ও তার পরিবারের লোকজন এই সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে গেছে বা সুড়ঙ্গের ভেতরে কোনো গোপন স’ানে আত্মগোপন করে আছেন। পশ্চিমা বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওই সব সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। সুড়ঙ্গগুলো কোথায় কী-ভাবে আছে, সে সম্পর্কে তেমন কেউই জানে না।
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের অনর্-র্বতীকালীন জাতীয় পরিষদের (টিএনসি) অন্যতম প্রধান নেতা মাহমুদ জিব্রিল দেশ পুনর্গঠনে লিবিয়াবাসীদের একতাবদ্ধ হওয়ার আহক্ষান জানি-য়েছেন। কাতারে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহক্ষান রাখেন বলে আল জাজিরা জানায়। তিনি বলেন, লিবিয়া-বাসীদের ক্ষত সারিয়ে তুলতে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে। গাদ্দাফির শাসন অবসান ও নির্বাচিত নতুন সরকার আসার পর, অবিচারের শিকার হয়ে যারা দুর্দশা ভোগ করেছেন তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জিব্রিল আরো বলেন, আধুনিক একটি জাতি গঠনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক লিবীয়র অবদানকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে লিবিয়া সক্ষম- বিশ্ববাসীর কাছে এটি প্রমাণ করতে হবে। ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদ প্রাঙ্গণে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের বিজয় উল্লাসের সময়ই জিব্রিল এ আহক্ষান জানান।
এদিকে ছয় মাস আগে যখন বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছিল, লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি তখন হুংকার ছেড়েছিলেন, ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ইঁদুর-ছুঁচোদের খতম করা হবে। আর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাদ্দাফির ক্ষমতার দুর্গ বাব আল-আজিজিয়ায় ঢুকে বিদ্রোহী যোদ্ধারা ্লোগান দিয়েছে, ‘ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ো। মঙ্গলবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর সন্ধ্যার দিকে সুরক্ষিত বাব আল-আজিজিয়ায় ঢুকে পড়ে বিদ্রোহীরা। সুউচ্চ সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়ে সাঁজোয়া যান নিয়ে ভেতরে ঢুকে বিদ্রোহীরা দেখে খা খা প্রান-র। কোথাও কেউ নেই। তখন বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কমান্ডাররা নির্দেশ দেন, গাদ্দাফি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুঁজতে প্রতিটি বাংকার ও টানেলে তল্লাশি চালানোর।
আবদুল হাকিম বেলহাজ নামের এক বিদ্রোহী কমান্ডার বলেন, গাদ্দাফি বা তাঁর ছেলেদের পাওয়া যায়নি। সবাই ইঁদুরের মতো পালিয়েছে। আবদুল আজিজ নামের এক বিদ্রোহী যোদ্ধা বলেন, আমরা এখন গাদ্দাফিকেই খুঁজছি। তিনি এই কম্পাউন্ডের মধ্যেই আছেন, হয় তো ভূগর্ভস’ কোনো কক্ষে আত্মগোপন করে আছেন। ইনিই কী সেই ব্যক্তি, যিনি আমাদের ইঁদুর বলে গালি দিয়ে-ছিলেন? তাহলে এখন তিনি গর্তে লুকালেন কেন? কোথাও কাউকে না পেয়ে বিদ্রোহী যোদ্ধারা ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করে। তারা ভেঙে ফেলে গাদ্দাফির ভাস্কর্যসহ একাধিক ভাস্কর্য, স-ম্ভ ও স্মারকচিহ্ন। লুটপাট করে অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন ভবনে। গত ছয় মাসে ন্যাটো বাহিনী অর্ধশতাধিকবার বিমান হামলা চালায় ওই কম্পাউন্ডে।
কম্পাউন্ডের মধ্যে গাদ্দাফির একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে বিদ্রোহীরা। এ ছাড়া গাদ্দাফির মুষ্টিবদ্ধ হাতের মধ্যে একটি জঙ্গি বিমান থাকা মূর্তিটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় তারা। ১৯৮০ সালের দিকে বাব আল-আজিজিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার সময় একটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছিল লিবিয়ার সেনাসদস্যরা। ওই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতীকী মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন গাদ্দাফি।
বাবাকে তিনি উপহার দেবেন লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির টুপি। আল-বিনদি নামের এই বিদ্রোহী গত মঙ্গলবার ত্রিপোলির বাব আল-আজিজিয়ায় গাদ্দাফির বাসভবন থেকে সেনা টুপিটি নিজের কাছে নিয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গাদ্দাফির স্মৃতিস্মারকও নিয়ে যায় বিদ্রোহীরা।
লাল ও ধূসর রঙের এই টুপিতে সোনালি সুতায় কাজ করা। যুক্ত-রাজ্যের স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় আল-বিনদি বলেন, ‘আমি গাদ্দাফির কক্ষে প্রবেশ করলাম। তখন আমার এমন অনুভূতি হলো-হায় আল্লাহ, এ কোথায় এলাম! আর তখনই পেয়ে গেলাম টুপিটা।’
বিদ্রোহী আল-বিনদি বলেন, ‘এ টুপি আমার বাবাকে উপহার দেব। গাদ্দাফি ও তাঁর অনুসারীদের কারণে তিনি অনেক দুর্ভোগ পোহান।’ বেশ বড় একটি সোনার হার ছিল বিদ্রোহীর গলায়। হাতে ছিল একটি এক দণ্ড।
আল-বিনদি জানান, ত্রিপোলিতে আসার আগে তিনি বিদ্রোহী সহযোদ্ধাদের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় গাদ্দাফির অনুগত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে লড়েছেন। এ সপ্তাহে গাদ্দাফির শক্ত ঘাঁটি দখল করেন তাঁরা।

পাতাটি ৩৫২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন