logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীর উপকন্ঠে ১৬ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত
অ্যানথাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস থেকে নগরীর উপকন্ঠে পবার খিরসিন টিকর গ্রামের প্রায় ১৬ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, ওই গ্রামের লোকজন ৩ আগস্ট রাতে ভারত থেকে সিটি হাটে বিক্রির জন্য আনা একটি রোগাক্রান্ত গরু অল্প দামে ক্রয় করে। গরুটি তাদের গ্রামের মধ্যে শুয়েপড়ে আর উঠছিল না। রাত ১২টার দিকে গ্রামবাসী গরুটি জবাই করে মাংস ভাগ করে নেই। এর তিন দিন পর থেকে গরুটির মাংস যারা নাড়াচাড়া করেছিল তারা অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে শুরু করে। তাদের হাতের আগুলে ও গিরায় গিরায় ফোসাপড়ার মত ঘা দেখা দেয়। এরপর আক্রান্তরা রামেক হাস-পাতালে চিকিৎসা নেয়া শুরু করে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পবা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিটি হাটের পার্শ্ববর্তী খিরসিন টিকর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত আনোয়ার হোসেন (৩৫) বলেন, ওই রাতে তিনি তার স্ত্রী আদরীসহ যারা গরু জবাই করে মাংস নাড়াচাড়া করেছিলেন তাদের মধ্যে ১৬জন ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত অন্যান্যরা হলেন, সফের আলীর পুত্র আতাউল (৩৫), আস্তার আলীর পুত্র মাসুদ আলী (৩০), আসির উদ্দিনের পুত্র সাদের আলী (৪৫), ইমান আলীর স্ত্রী মর্জিনা (৫৫), ইমাম আলীর পুত্র নজরুল (৪০), এলাহী বক্সের পুত্র খোকন (৩০), মনুহার এর পুত্র মুরাদ (২৪), ওয়াসিম এর স্ত্রী রুমা (২৫), ইসাহাক আলীর স্ত্রী মুস্তাকিন (৪০), রফিক খান্দারের পুত্র আসাদ (৩০), আব্দুল আজিজের স্ত্রী জমেলা (৫৫), ওসিমদ্দিনের পুত্র আহাম্মদ আলী (৩৫)। এর মধ্যে কয়েকজন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেখানে রক্ত পরীক্ষার পর তাদের কয়েকজনকে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং অন্যান্যদের একই ওষুধ খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয় বলে আনোয়ার জানান। আক্রান্তদের একজনকে রামেক হাসপাতালের আউটডোরে গতকাল চিকিৎসা দিয়েছেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফসার সিদ্দিকী। তিনি এই, রোগীকে ব্যাকটিন ৫০০ এমজি সিটিজিন এবং ওরাডাক্সন খাবার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে গতকাল ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, স’ানীয় চিকিৎসক এসএম রবিউল ইসলাম গ্রামের রোগ আক্রান্ত পশু গুলোকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। সেখানে দেখা গেছে, রোগাক্রান্ত গরু মহিষের সাথে ভাল গুলোকেও রাখা হয়েছে। অথচ এভাবে একসাথে রাখা উচিত নয় বলে চিকিৎসকরা জানান। গ্রামবাসী বলেছেন, নগরীর সিটি হাটে প্রতি হাট বারে ২/১ টি গরু মারা যায়।

এগুলো পুঁতে না ফেলে হাটের পাশে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। ফলে তারা গ্রামবাসী এগুলোর মাধ্যমে নানা রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন। তাছাড়া প্রতিনিয়ত হাটের রোগাক্রান্ত গরুগুলো বিভিন্ন এলাকার কসাইরা জবাই করে মাংস বিক্রি করছে। এগুলো কেউ দেখছেনা। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে যাচ্ছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। পবার হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কামাল আজাদ জানান,তিনি খবর পেয়ে গতকাল ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পবা প্রাণী সম্পদ কমকর্তা সফিউল আলম জানান, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর মাংস না খেয়ে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত পশু হাটতে পারবে না, গায়ে তীব্র জর আসবে, পেট ফেঁপে যাবে, মলদার ও মুখ দিয়ে রক্ত আসবে। খবর পেয়ে গতকাল তিনি ওই গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। গ্রামের পশুগুলো সুস্থ রাখতে তার নেতৃত্বে একটি টিম আজ ওই গ্রামের পশুগুলোকে ভ্যাকসিন দেবে।

খবর পেয়ে গতকাল পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান ওই গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। তিনি আক্রান্তদের পবা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ডাক্তার-দের গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা দিতে বলেছেন। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। ভারত থেকে পশুগুলো আনার সময় সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থ থাকলে এই পরিস্থিতি হতো না বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

পাতাটি ২৯৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন