logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ভবন নির্মাণে মানা হয় না বিল্ডিং কোড, ছাড়পত্র নেই ফায়ার সার্ভিসের
রাজশাহীতে সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এর নিয়ম মানা হচ্ছে না। এমন কী ভবন নির্মানের নকশায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সেরও কোন ছাড়পত্র নেওয়া হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, রাজশাহীর অসংখ্য বহুতল ভবনের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র তিনটি ভবন। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না নিয়েই রাজশাহী সিটি সেন্টার নির্মাণের নকশা অনুমোদন করেছে আরডিএ কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনায় অগ্নিনির্বাপন ব্যবস’া না থাকায় পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আবেদন করেও ছাড়পত্র পায়নি সিটি সেন্টার। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস’া না থাকায় বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস’ায় রয়েছে নগরীর ব্যস্ততম আরডিএ মার্কেট, সিএন্ডবি মোড়ের জীবনবীমা ভবন, নিউমার্কেটসহ অসংখ্য বহুতল ভবন। এসব ভবনে ঝুঁকিপূর্নভাবে বসবাসসহ ব্যবসা, ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহীতে অসংখ্য বহুতল ভবন থাকলেও এগুলো নির্মাণের সময় ফায়ার সার্ভিসের কোন ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। এপর্যন্ত মাত্র তিনটি ভবন নির্মাণের ছাড়পত্র নিয়েছে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান। ছাড়পত্র না নিয়েই আরডিএ কর্তৃপক্ষ নকশা অনুমোদন করায় পরবর্তীতে ছাড়পত্র চেয়েও পায়নি সোনাদীঘি মোড়ে নির্মানাধীন সিটি সেন্টার। সূত্রটি জানিয়েছে, ভবন নির্মানের সময় অনুমোদন পেতে হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগুনের নিরাপত্তা রাখতে হবে। অগ্নিকান্ডের সময় বহুতল ভবন থেকে নিরাপদে নামার ব্যবস’া, বসবাসকারি লোকের সংখ্যা ৫০ জনের অধিক হলেই একাধিক সিঁড়ির ব্যবস’া, ভবনের নিচে পানির ট্যাংকি, অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র, বহুতল ভবনে হাইড্রেন (বিশেষ পানির ব্যবস’া) ব্যবস’া এবং সিঁড়ি হবে কমপক্ষে ৬ ফিট চওড়া। কিন’ নতুন ভবন নির্মাণে এসব কোন নিয়ম মানা হচ্ছে না।

পুরাতন ভবন নির্মাণেও এসব নিময় মানা হয়নি। ফলে বহুতল ভবন ও বানিজ্যিক ভবনগুলোর অধিকাংশই অগ্নিনির্বাপনের জন্য নিরাপদ নয়। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নগরীর আরডিএ মার্কেট। এই মার্কেটটি এমনভাবে নির্মিত যে কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষনিকভাবে দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কেটের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। মার্কেটের আশে-পাশে নেই পানি সরবরাহের জন্য কোন পুকুর বা পানির ব্যবস’া। ফলে এই মার্কেটে কোন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে তার ভয়াবহতা হবে ব্যাপক। কিন’ নির্মাণের শুরুতে এই মার্কেটে নকশাতেও অগ্নিনির্বাপনের কোন পরিকল্পনা রাখা হয়নি। এমন কী মার্কেটের ভিতরে যেসব দোকান-গুলো রয়েছে, তার মালিকরাও দোকানে রাখেন না অগ্নিনির্বাপনের যন্ত্র।

দোকান মালিকরাও দমকল বাহিনীর কোন লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। আরডিএ মার্কেটের ক্রেতারা জানান, এই মার্কেটটি এমন ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে, বাতাস প্রবেশেরও ব্যবস’া নেই। মার্কেটে কেনা-কাটা করতে গিয়ে তিব্র গরমে প্রায়ই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ক্রেতারা। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, এই মার্কেটটি নির্মাণ পরি-কল্পনা দেখলে অবাক না হয়ে পারা যায় না। মার্কেটের সিঁড়িগুলো এতোটাই সরু যে, এখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও প্রবেশ করতে পারবে না। এর আশে-পাশে পানি সরবরাহেরও কোন ব্যবস’া নেই। ফলে এখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, এ অবস’ায় আমরা প্রতিটি দোকানে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র রাখার পরামর্শ দিয়েও কোন সাড়া পাচ্ছি না। এর পরেই ঝুঁকিপূর্ন অবস’ায় রয়েছে নগরীর সিএন্ডবি মোড়ের জীবন বীমা ভবন।

১০ তলা এই ভবনটিতে রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। কিন’ ভবনটি নির্মাণের সময় নকশায় যেমন নেওয়া হয়নি অগ্নিনির্বাপনের কোন পরিকল্পনা, তেমনি পরবর্তীতেও ফায়ার সার্ভিসের কোন ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি ভবনটির জন্য। এছাড়া নিউমার্কেট, বহুতল বিভিন্ন ছাত্রাবাস, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকেও অগ্নিনির্বাপনের কোন ব্যবস’া রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ফলে ছোট-খাট কোন দুর্ঘটনা থেকে নগরীর বহুতল ভবনগুলোতে ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা।
এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী শাখার পরিদর্শক নুরুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র না নিয়ে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা হয়ে আসছে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

পাতাটি ৩৪৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন