logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo জনসাধারণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা বাড়ছেই নগরীর ফুটপাতগুলো ব্যবসায়ীদের দখলে !
“ফুটপাত দিয়ে হাঁটার জায়গা নাই, তাই রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। এসময় পেছন থেকে আসা রিক্সার ধাক্কায় পা খাম হয়ে গেল”-কথাগুলো বলছিলেন সাহেব বাজারের বড় রাস্তা দিয়ে হাঁটা পথচারী শহীদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগরীর এমন কোন ফুটপাত নাই যার উপর দিয়ে নির্বিঘ্নে হাঁটা যায়। ফুটপাতের অধিকাংশই দখলদারদের কবলে। হাঁটতে হলে রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদেরকে।

এ অভিযোগ শুধুমাত্র শহীদুলের নয়, পুরো মহানগরবাসীর। রাজশাহী মহানগরীর বেশির ভাগ ফুটপাতই দখলদারদের কবলে। নগরীর এমন কোন রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেটি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি রাস্তার উপর দখলদাররা এমনভাবে দখল করে নিয়ে আছেন যার উপর দিয়ে কোনমতেই হাঁটা চলা করা যায়না। বাধ্য হয়ে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটার কারণে পখচারীদেরকে যানবাহনের ধাক্কায় নিত্য আহত হতে হচ্ছে। প্রশাসনের একটি বিভাগ আছে এ বিষয়টি দেখভাল করার জন্য। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের উদাসীনতার কারণ জনসাধারণের অজানা। নগরবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তা দখলদারদের সাথে সখ্যতা করে মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ নিয়ে বসতে দিয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখনো অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলেও পরদিনই তারা আবার বসে। কোথাও কোথাও স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী মহানগরীর এসব দখলদারদের বেশির ভাগই ছোট-বড় ব্যবসায়ী। ছোট ব্যবসায়ীরা ফুটপাতের উপর সকালে তাদের দোকান বসিয়ে রাতে তুলে ফেলে। কিন্তু বড় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্থায়ী স্থাপনা তৈরী করে রেখেছেন। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের কোন কার্যক্রম নিতে দেখা যায়না প্রশাসনকে। অবৈধ ভাবে এসব ফুটপাত দখল করায় শুধুমাত্র পথচারীদের দুর্ভোগই হচ্ছেনা। এনিয়ে মাঝে মধ্যেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দখল হওয়া ফুটপাতের অধিকাংশই বাজার এলাকা। এসবের মধ্যে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার বড় রাস্তার ফুটপাতের অবস্থা খুবই নাজেহাল। জিরো পয়েন্ট থেকে আরডিএ মার্কেটে ঢোকার মুখ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ছোট-বড় দখলদাররা দখল করে রেখেছেন। এ স্থানের ফুটপাত দখলের কারণে সরু হয়ে যাওয়ায় মানুষজনকে অতি কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মহিলারা। সরু রাস্তার কারণে পুরুষ মানুষের সাথে ঠাসাঠাসি করে চলতে হচ্ছে। এছাড়া ওভার ব্রীজের পশ্চিম পাশ থেকে মনিচত্বর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে দখলদাররা। ফুটপাতের উপর দোকানদাররা তাদের মালামাল সাজিয়ে রেখে দখল করে রেখেছেন। সাহেব বাজার রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনের রাস্তা দেখে মনে হয় এখানে কোন ফুটপাত নেই। গণকপাড়া রহমানিয়া হোটেলের সামনে দু’পাশের রাস্তা স্থায়ীভাবে দখল হয়ে আছে। রাণীবাজারের রাস্তাগুলো দোকানদাররা তাদের দোকানের পণ্য ফুটপাতের উপর রেখে দখল করে রেখেছে।

নিউমার্কেটের সামনে পূর্বপাশে ও উত্তরপাশে স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে দখলদাররা। এসব অবৈধ দোকান সিটি কর্পোরেশন করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। বিন্দু হোটেলের সামনে ফুটপাত দখল করে রেখেছে কাটা কাপড় বিক্রেতারা। রেলগেটের কাছে রেলভবনের সামনের ফুটপাত দখলে রেখেছে মুদি ব্যবসায়ীরা। পূর্বদিকে রেশম ভবনের সামনে থেকে ঢাকা বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত কাপড় ব্যবসায়ীরা, ঢাকা বাস স্ট্যান্ডের সামনে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা, রেলষ্টেশনের সামনে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে দখলদাররা। এছাড়া নগরীর লক্ষ্মিপুর বাজারের প্রতিটি ফুটপাত দখল করে রেখেছে দখলদাররা। লক্ষ্মীপুর এলাকায় হাসপাতাল ও অধিকাংশ ক্লিনিক থাকায় এ এলাকায় রাজশাহী মহানগরীর ও এর বাইরের লোকজনের চলাফেরা বেশি। কিন্তু এলাকার ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ার কারণে পথচারীরা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার পরিমাণ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এলাকাবাসী এসব অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ফুটপাত উদ্ধার করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

নগরীতে ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে এ বিষয়টি স্বীকার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ বলেন, রোজার আগেই এ ব্যাপারটি নিয়ে রাজশাহী সিটি মেয়র, কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের সাথে বসা হবে। সবার সাথে আলোচনা করা হবে কিভাবে এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। তিনি আরো বলেন, যেহেতু রোজার মধ্যে বাজারগুলোতে ভীড় বেড়ে যায় সেহেতু রোজার আগেই এর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে পথচারীরা সুন্দর ও সাবলীলভাবে ফুটপাতের উপর দিয়ে চলাচল করতে পারে।

পাতাটি ২৯২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন