logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে কাজ করছে বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির কালচারাল একাডেমী ।
বাংলাদেশের নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির জীবনধারা, ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস বিষয়ে গবেষনা এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে মহানগরীর কোর্ট স্টেশনের ২ কিলোমিটার দূরে মোল্লাপাড়ায় সাড়ে ৪ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয় রাজশাহী বিভাগীয় কালচারাল একাডেমী বর্তমানে এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী নামে পরিচিত।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে নির্মান শুরু হয়ে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত হয়। রাজশাহীতে বসবাসরত নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমীর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১২ টি পদের(জনবলের) সংস’ান রাখা হয় এবং ১২ টি পদেই জনবল নিয়োগ দেয়া হয়।

কিন’ নানান ধরনের টানাপোড়নের কারনে কাংখিত লক্ষ্য ব্যহত হয়। এরই এক পর্যায়ে বছর তিনেক আগে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেন একাডেমীর উপ-পরিচালক আজিজুল হক। সেই সাথে চাকুরী ছাড়েন নৃত্য প্রশিক্ষক ও কম্পিউটার অপারেটর। তিনটি পদ শূন্য থাকায় এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। বর্তমানে একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এস,এম শামীম আক্তার। তিনি ঢাকা থেকে এসে এই দায়িত্ব পালন করছেন। এস, এম শামীমের সাথে কথা বললে তিনি জানান একাডেমীর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আরো জনবল প্রয়োজন।

বিশেষ করে নৃত্য প্রশিক্ষক, কম্পিউটার অপারেটরসহ সাউন্ড সিস্টেম অপা-রেটর এবং ইলেক্ট্রেশিয়ান। এছাড়াও একাডেমীর নিরাপত্তার দয়িত্বে রয়েছে ১ জন মাত্র নাইট গার্ড। একজনের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন অসম্ভব। যার কারণে মাঝে মধ্যেই এখানে চুরির ঘটনা ঘটে। সুইপার পদেও কোন লোক নাই। তিনি এই পদগুলিতে লোক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। একাডেমীর চলমান কার্যক্রম বিষয়ে জানান উত্তরবঙ্গে বসবাসরত নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষে একাডেমীর উদ্যোগে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আদিবাসী ছেলে মেয়েদের সংগীত, আদিবাসী সংগীত, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র ও নাটক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সপ্তাহে ৩ দিন প্রশিক্ষণ ক্লাস এবং ২ দিন মহড়া ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। উপ-পরিচলিক শামীম জানান বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য এখানে ২৩০ আসনের সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ একটি অডিটোরিয়াম রয়েছে।

কিন’ সাউন্ড সিস্টেম এবং ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে কোন জনবল না থাকায় এটি ব্যবহারে অসুবিধায় পড়তে হয়। তিনি এই একাডেমীর উৎকর্ষ সাধনে একটি ডরমেটরী এবং খেলা ধূলার জন্য একটি মাঠ প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। একাডেমী প্রাঙ্গণে আদিবাসী লাইব্রেরী, স্যুভিনিয়র সোপ এবং যাদুঘর নির্মানের কাজ চলছে। নির্মাণ সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষন এবং তা বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে এই একাডেমী অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ শুরু করেছে বলে জানান উপ-পরিচালক। তিনি বলেন উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩৩ টি ছোট বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের প্রত্যেকের রয়েছে স্বতন্ত্র সমৃদ্ধ কৃষ্টি, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান । যা বংশ পরস্পরায় অদ্যবধি তারা লালন করে আসছেন।

যার কোন লিখিত রূপ না থাকায় কালের বির্বতনে আজ তা বিলুপ্তির পথে। একাডেমী কিছু বিষয়কে চিহ্নিত করে তা রক্ষা ও সংরক্ষনের জন্য গবেষণা কাজ করছে এবং বর্তমানে ভিডিও আকারে ধারন করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। একাডেমী ৭ সদস্যের কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যার সভাপতি হিসাবে রয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমি-শনার এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন একাডেমীর উপ-পরিচালক। একাডেমী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সকল দিবসসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন করে থাকে। সংশ্লিষ্টরা একাডেমীর কার্যক্রমের সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মানুষের সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

পাতাটি ৪০৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন