logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo উত্তরাঞ্চল জুড়ে ভ্যাপসা গরম
মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। গত মাস থেকে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। ফলে পুরো উত্তরাঞ্চল জুড়েই সৃষ্টি হয়েছে ভ্যাপসা গরম। তাপমাত্রা না বাড়লেও এমন ধারাবাহিকতা আরো কিছুদিন থাকবে বলে জানান আবহাওয়া অফিস। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মুষলধারে বৃষ্টি হবার তেমন সম্ভাবনা নেই। এতে করে গরম আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের আবহাওয়া হয়ে পড়ছে রুক্ষ। আকাশে মাঝে মধ্যে মেঘের আবরণ থাকলেও তেমনভাবে বৃষ্টি হচ্ছেনা। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও গরম কমছেনা মোটেও। বিশেষ করে আকাশে মেঘ থাকার কারণে মূলত গরমের ভাবটা বেশী বলে আবহাওয়াবিদদের মন্তব্য। এ পরিস্থিতি থাকবে আরো বেশ কিছুদিন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ক’দিন লাগতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি। সব মিলিয়ে উৎকট গরমে জনগণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

এবার উত্তরাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনাবস্থায় এ অঞ্চলে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড সংক্রমিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার খবর মিলছে। তবে তা মহামারি আকারে নয়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন থেকে বিরাজ করছে ভ্যাপসা গরম। এ অঞ্চলের প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় বৃষ্টি হলেও গরম কমছেনা। বরং বৃষ্টি থেমে যাবার ঘন্টা দু’তিনেক পর আবারো শুরু হয় অসহনীয় গরম। বর্তমানে সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই শুরু হচ্ছে গরমের তান্ডব। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দিন মজুর শ্রেণীর মানুষেরা। বিশেষ করে রিকশা চালক ও লেবার শ্রেণীর কর্মজীবীরা। দুপুর হতে না হতে রিকশা চালকরা বাধ্য হচ্ছে শিতল ছায়ায় জিরানোর স্থান খুজতে। আবার অনেকে এই রোদ উপেক্ষা করে রিকশা চালাতে গিয়ে হয়ে পড়ছে অসুস্থ। তখন বিপাকে পড়ে রিকশা চালানো বাদ দিচ্ছে।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাপমাত্রা। থাকছে গভীর রাত অবধি। ঘরে ফ্যানের বাতাসেও মানুষ নিজেকে শীতল করতে পারছেনা। আর এই উৎকট গরমের কারণে বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও কোল্ড ড্রিংসের কদর বেড়ে গেছে। প্রাণ শীতল করতে ডাব, শসা, বেলের শরবতের কদরও বেড়েছে। ভর দুপুর বেলা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তবে তা মহামারি আকারে নয়। সেই সাথে ভাইরাস জ্বর, চিকেন পক্স, ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে গত মাস থেকে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ মে। তা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ছিল ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল বুধবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি, গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিযাস, গত সোমবার ছিল সর্বোচ্চ ৩৬দশমিক ৬ ও সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াশ। রংপুরে তাপমাত্রা ছিল সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও সর্বোনিম্ন ২৫ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের এই তথ্যানুযায়ি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর ভ্যাপসা গরম মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেল সিয়াস। সেটা ছিল ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাঃ আতাউর রহমান বলেন, অত্যধিক গরমের কারণে হৃদরোগীদের বুকের ব্যথা বেড়ে যায়। এমন কি এই রোগের আক্রান্তরা তীব্র গরমে অধিকহারে ঘামতে থাকে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন, অত্যধিক গরমের কারণে শিশুদের দেহে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। যার ফলে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাতাটি ২৭০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন