logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ট্রেনে চোরাচালানিদের কাছে অসহায় যাত্রীরা
দিনাজপুর, নীলফামারী ও পার্বতীপুর থেকে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনাগামী আন্তনগর মেইল ট্রেনে চলাচলরত যাত্রীরা চোরাচালানিদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে। টিকিট কেটে যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে যেতে বিড়ম্বনায় পড়ছে। চোরাচালানিদের প্রকাশ্যে সহযোগিতা করছে রেলওয়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট ট্রেনের ড্রাইভার, গার্ড, টিটিই, অ্যাটেনডেন্ট, স্টেশন মাস্টার, সিগন্যাল ম্যানসহ সবাই। চোরাচালানি ও ট্রেনের ড্রাইভারের যোগসাজশে স্টেশন ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ট্রেন থামিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানো এবং অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ট্রেনে তল্লাশি করার কারণে যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান, নীলসাগর, নীলফামারী থেকে রাজশাহীগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, পার্বতীপুর থেকে রাজশাহীগামী উত্তরা মেইল ট্রেন, পার্বতীপুর থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও রকেট মেইলে চোরাচালানিরা ভারতীয় অবৈধ পণ্যসামগ্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নিম্নমানের সার, কীটনাশক, স্টিলসামগ্রী, ফেনসিডিল, বিয়ার, জিরা, জর্জেট শাড়ি, থান কাপড়, ওষুধসামগ্রীসহ অনেক ধরনের পণ্য।
এসব ট্রেনে চলাচলকারী যাত্রীরা অভিযোগ করেন ট্রেনের দায়িত্বরত পুলিশ (জিআরপি), নিরাপত্তা বাহিনী, অ্যাটেনডেন্ট, টিটিই কাউকে বলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। উল্টো চোরাচালানিদের কাছে হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চোরাচালানি জানায়, হিলি স্টেশনে প্রতি বস্তা ভারতীয় সারের জন্য বিডিআর ১০০ টাকা, জিআরপি ৪০, থানা ৩০, কাস্টমস ১০, পাঁচবিবি স্টেশনে বিডিআর স্পেশাল ৫, নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নাটোর জিআরপি ৩০, আব্দুলপুর স্টেশনে নিরাপত্তা ১০ এবং সান্তাহার পিসিসহ (সিনিয়র পুলিশ কনস্টেবল) দায়িত্বরত অন্যান্য আট ধরনের স্টাফকে ৬০ টাকা করে দিতে হয়। এই চোরাচালানি জানায়, টাকা না দিলে মালামাল পুলিশ কেড়ে নেয়।
সরজমিনে দেখা যায়, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্টেশনে প্রকাশ্যে নেম ব্যাচ খুলে জিআরপি পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী, গার্ড, অ্যাটেনডেন্ট ও অন্যান্য সংস্থার নিয়োজিত দালালরা চোরাচালানিদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনে নিয়মিত রাজশাহী যাতায়াতকারী একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ বলেন, চোরাচালানিদের দাপটে ভদ্রভাবে ট্রেনে যাওয়া যায় না।
চাকরিজীবী ফজলে এলাহী বলেন, সব ট্রেনেই চোরাচালানিদের দাপট, তার পরও নিরাপদ ও কম খরচের কারণে চোরাচালানিদের অত্যাচার সহ্য করে হলেও যেতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একজন পরিচালক বলেন, সবাই টাকা খায়, নাম হয় শুধু গার্ডের।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলরা জানান, ‘ট্রেনে ডিউটি নেওয়ার জন্য থানার ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এই জন্য আমাদেরও চোরাচালানিদের কাছ থেকে টাকা নিতে হয়।’
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করলে চোরাচালানিদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিআরপি সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বলেন, যেসব পুলিশ কনস্টেবল বলে ডিউটি নেওয়ার জন্য থানার ওসিকে টাকা দিতে হয় তাদের নাম, ঠিকানা দিতে পারলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, চোরাচালানিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ট্রেনে ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবলদের দায়িত্ব সান্তাহার থানা ভাগ করে না।
পাঁচবিবি স্টেশন মাস্টার সন্তোষ কুমার জানান, ‘স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানো অবস্থায় চোরাচালানিরা মালামাল ওঠায় সত্য। কিন্তু আমরা কিছু করতে পারি না। এগুলো তো থানা পুলিশের ব্যাপার। হিলি স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।’

পাতাটি ৩২৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন