logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে বন্ধ রেশম কারখানার ৪ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর মানবেতর জীবনযাপন
বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজশাহীর রেশম কারখানার ৪শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে কয়েকবার কারখানা চালুর আশ্বাস পেয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা আশায় বুক বাধলেও আজ পর্যন্ত কোন প্রতিফলন ঘটেনি। এদিকে, বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণে রেশম শিল্পই আজ হুমকির মুখে।

লোকসানের অজুহাতে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর রাজশাহী রেশম কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অথচ ২০০১ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কারখানায় বিএমআরআই মেশিন কেনা হয়। মাত্র কদিনের ব্যবধানে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মেশিনগুলো পড়ে আছে অচল হয়ে। আর বন্ধ হওয়ার পর এখানকার ৪ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পেড়েন। এদের অধিকাংশই নারী শ্রমিক। অন্য কাজের অভিজ্ঞতা না থাকাই চরম দূদিনে রয়েছেন এরা। শ্রমিক-কর্মচারী শ্রমিক-কর্মচারীদের অনেকে রিক্সা চালিয়ে অথবা দিনমজুরী করে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে, গত ২০০৯ সালের ৮ মে রেশম কারখানার বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শণ শেষে রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছিলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এ কারখানা চালু করার জন্য ইতোমধ্যেই সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, কারখানার যে সকল শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে পাঠানো হয়েছিল তারাও যেন রেশম কারখানায় কাজ করার সুযোগ পায় সে বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

একই বছরে রাজশাহীতে ৫ দিন ব্যাপী সিল্ক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র লিটন আবারো রেশম কারখানা চালুর আশ্বাস দেন। গত দুই বছর ধরে তার আশ্বাস আশ্বাসই থেকে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বন্ধ হয়ে যাবার আগে রেশম কারখানার কাঁধে ছিলো ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঋণের বোঝা। অথচ ১৯৬১ সালে ৪৭১ জন শ্রমিক-কর্মচারি নিয়ে চলতে শুরু করা ঐতিহ্যবাহী এই কারখানা ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেছে।

১৯৭৮ সালে রেশম বোর্ডের হাতে কারখানা ছেড়ে দেয়ার পর শুরু হয় লোকসানের পালা। বন্ধ হবার পর ২০০৬ সালে কারখানাটি বেসরকারীকরণের তালিকাভুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণেই বছরের পর বছর অবহেলিত রেশম শিল্প। সিল্ক-এর উন্নয়ন নিয়ে মাঝে মধ্যে সরকারী কিছু ভাল উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেসব বাস্তবে রূপ নেয়নি। ১৯৯২ সালে রাজশাহীতে রেশম শিল্প নগরী স্থাপনের উদ্যেগ নেয়া হয়। সকল কার্যক্রম শেষ করে অর্থও বরাদ্দ হয়, কিন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

আর শ্রমিক-কর্মচারীদেরও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। রাজশাহী রেশম বোর্ডের একটি সুত্র জানান, রেশম কারখানাটি বেসরকারী পর্যায়ে দেবার প্রায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার । তবে স্থানীয় জনগণের দাবি এটা সরকারি পর্যায়ে রেখে চালু করা হোক।





সুত্র : নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩৩০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন