logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo পদ্মার হাহাকার
‘পদ্মার ঢেউ রে মোর শূন্য হূদয় পদ্ম নিয়ে যা, যা রে...’ রাজশাহী শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একসময়ের প্রমত্তা পদ্মার পাশে দাঁড়িয়ে এখন কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই গানের সঙ্গে পদ্মাকে কিছুতেই মেলানো যাবে না। এখন পদ্মায় নেই আর সেই ঢেউ, নেই পাল তোলা নৌকা, নেই স্রোতের গর্জন। এখন পদ্মার বুকে জেগে উঠেছে ধু ধু বালুচর। কয়েক বছর আগেও যেখানে ছিল অথই পানি, এখন সেখানে চেয়ার পেতে বসানো হয়েছে চটপটি ও ফুসকার ভ্রাম্যমাণ দোকান। পদ্মার এখন হতশ্রী দশা।

হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি হয়ে গঙ্গা নাম ধারণ করে এই নদী ভারতের এলাহাবাদে এসে যমুনায় মিলিত হয়েছে। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনপুরে প্রবেশ করে এটি পদ্মা নাম ধারণ করে।
রাজশাহী শহরের স্থানীয় লোকদের ভাষ্য, আগে পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে পদ্মার গর্জন শোনা যেত। পদ্মার ঘাটে বড় বড় লঞ্চ, জাহাজ ভিড়ত। সারা বছর পানি শুকাত না। এখন সেই পদ্মা বিল-খাল হয়ে যাচ্ছে। এখন পানিতে কান পাতলেও আর পদ্মার স্রোতের কোনো শব্দ শোনা যায় না। এখনকার বাচ্চাদের কাছে সেই নদীর গল্প বললে ওরা হাসবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সূলতানুল ইসলাম বলছিলেন, যে পদ্মার বুকে কোনো চর ছিল না, সেখানে এখন বিরাট চর জেগেছে। এটা হয়েছে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে। আগে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পলল বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত। এখন আর সেটা হচ্ছে না। মাঝখানে চর ফেলে একাধিক ক্ষীণ ধারায় আঁকাবাঁকা হয়ে যেখানে যাচ্ছে সেখানেই ভাঙছে।

কয়েক বছর ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে, শুধু জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় জোয়ার থাকে। তার পরই পানি কমতে থাকে। নগরের বুলনপুর এলাকা থেকে তালাইমারী পর্যন্ত আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চর পড়েছে। অথচ বছর পাঁচেক আগেও রাজশাহীর টি গ্রোয়েন এবং বড় কুঠি এলাকায় বিপুল পানি থাকত। প্রখর স্রোত ছিল।



পাতাটি ২৯৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন