logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo সর্বত্রই অস্থিরতা, রাজনৈতিক চাপে পুলিশ অসহায় : রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেপরোয়া ছাত্রলীগ
রাজশাহী মহানগরীর উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। ছাত্র নামধারী বেশ কিছু ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজ করছে অস্থিরতা। শুধু উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রুয়েট ক্যাম্পাসে অবস্থিত অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজটি। স্কুল এন্ড কলেজটির শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। ছাত্রলীগের বেপরেয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আ’লীগ নেতাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। অভিযোগ রয়েছে, নগর আ’লীগের শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় প্রশয় এবং তাদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের হাত থেকে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোতে দূরের কথা সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না। গতকাল রোববারও রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে সৌখিন (২২) নামের এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, ঠিকাদারী কাজের ভাগ-বাটোয়ারা, ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে ছাত্রলীগ উত্তপ্ত করে রেখেছে নগরীর ৫টি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী কলেজের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানও ছাত্রলীগের দ্বারা আক্রান্ত। গত শনিবার রাজশাহী কলেজের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীতে পাস কোর্সের কতিপয় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী প্রশাসনিক ভবনের সামন আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাংবাদিকদের জানমাল। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সময় টিভির ক্যামেরাম্যানের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদ করায় হামলা চালানো হয় সাংবাদিক-ফটোসাংবাদিকের উপর। এ ঘটনায় আহত হন ৫জন সাংবাদিক। প্রতিবাদে কড়া রোদের মধ্যে সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন তারা। এর সপ্তাহ খানেক আগে ভর্তির কোটা না দেয়ায় রাজশাহী সিটি কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগ। ওই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে পায়ে ধরেও মন গলাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে রাজশাহী সিটি কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া।
এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থকদের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষের কারণে বছরের অনেক সময় অস্থিরতা বিরাজ করে। কয়েক দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধও হয়ে যায়। গত আগষ্ট মাসে সভাপতি জয় ও সাধারণ সম্পাদক অপুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নাসিম নামের এক কর্মী নিহত হয়। এর পর থেকে রাবি ছাত্রলীগের কমিটি থেকে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়। শুধু রাবি নয় ছাত্রলীগের তাণ্ডবের কারণে রুয়েট ও অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ গত এক মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্িরতবাদ করায় রুয়েট ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্ররা অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজটি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলা, মারপিট এবং তাদের ক্যামেরা ভাংচুর করে। রাবিতেও অসংখ্যবার সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়। এর আগে ছাত্রলীগের নেতারা ভিসি’র কাছ থেকে অনুষ্ঠান করার সাড়ে ৭ লাখ টাকা ও মেধাহীন এক ছাত্রের শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে না পারায় রুয়েট ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাকও দেয় তারা। এই নিয় লঙ্কা কাণ্ডও ঘটায়। এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর ছাত্রলীগের দ্বারা আক্রান্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও রাজশাহী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট। দফায় দফায় ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ভেঙ্গে পড়ে। পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে খুন হয় ছাত্রমৈত্রীর নেতা সানি।
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করে ছাত্রলীগ বেপরোয়া উঠে। সেই বেপরোয়া ডোন্ট কেয়ার ভাব এখনও বজায় রয়েছে। ছাত্রলীগের বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অসহায় রাবি, রুয়েট, মেডিকেল কলেজ, পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ও রাজশাহী কলেজের প্রায় ৭০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী জিম্মি ও অসহায়। অভিভবকরাও উদ্বিগ্ন। অভিভাবকরা প্রতিদিন সকালে তাদের ছেলেমেয়েকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকেন তার সন্তান সুস্থ অবস্থায় বাড়ী ফিরবে কিনা।
এদিকে ছাত্রলীগ নগরীর উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একের পর এক অঘটন ঘটালেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অসহায়। কোন কোন সময় রাজনৈতিক কারণে পুলিশকে ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষ সংগঠনগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়।
এদিকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে নগরীর শীর্ষ ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি গঠন করার প্রত্রিয়া চলছে। প্রথমেই হাত দেয়া হবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে। এই ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ। ছাত্রলীগের অছাত্রসুলভ আচারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ছাত্রলীগের জন্য তিনি যে বিব্রত সেটা বলতেও কোন দ্বিধাবোধ করেন নি। তবে তিন এই সব ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের দায়ী করেননি। দায়ী করেছেন ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসীকে। গত শনিবার নগর ভবনে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রলীগের হামলার সমঝোতা বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র লিটন ওই বৈঠকে দাবী করেন ছাত্রলীগে অন্য আদর্শের ছাত্রদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এর যুক্তি হিসাবে তিনি দাঁড় করিয়েছেন যে, দল ক্ষমতায় আসার আগে মিছিল-মিটিংয়ে এক’শ জনের অধিক কর্মী পাওয়া যেতনা। দল ক্ষমতায় আসার পর এখন মিছিল-মিটিংয়ে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী দেখতে পাওয়া যায়। তবে তিনি যে যুক্তিই তুলে ধরেন না কেন সেটা মানতে নারাজ সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। অভিভাবকদের মতে, নগর আ’লীগের শীর্ষ নেতারা তাদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগকে সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সূত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩৩৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন