logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের আহত মন
২৯ এপ্রিল ১৯৭১। ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৬০ সদস্যের মুক্তিবাহিনীর পাঁচটি দল রণ সাজে সজ্জিত। পাকিস্তানি সেনাদের অ্যামবুশ করতে বৃহত্তর রাজশাহীর গোদাগাড়ি সেতুর আশপাশে অবস্থান নিয়েছে দলগুলো। ভোররাতে পাকিস্তানি সেনাদের গাড়ির বহর ওঠে সেতুর ওপর আর তখনই বিকট বিস্ফোরণ। উড়ে যায় সেতু। পাকিস্তানি সেনা বহরের দুটি গাড়িসহ সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। পাল্টা আক্রমণ করল পেছনে থাকা পাকিস্তানি সেনারা। শুরু হলো তুমুল গোলাগুলি। সমুখযুদ্ধে বাম কাঁধে গুলি লাগে আবুল কাশেমের। এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায় কাঁধ। কাশেম ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও শহীদ হন পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন আরও পাঁচজন। তবে যুদ্ধে পিছু হটে পাকিস্তানি সেনারা। পরে ভারতের বহরমপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ হয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন আবুল কাশেম। নয় মাস যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন হলো। অন্যদের মতো তিনিও আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সেই আশা যেন হতাশার পাহাড়। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন কিন্তু পাননি সরকারি সুবিধা, কোনো ভাতা। বারবার ধরনা দিয়ে এখন ক্লান্ত তিনি। রাঙ্গুনিয়ায় সৈয়দবাড়ি গ্রামে পরিবার নিয়ে কষ্টে কাটছে যুদ্ধাহত এ মুক্তিযোদ্ধার দিন।

আবুল কাশেম জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন তাঁরা। তিনি তখন পুলিশ বাহিনীতে রাজশাহী ব্যারাকে কর্মরত
ছিলেন। ১৫ মার্চ রাজশাহী ব্যারাকের সামনে সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতা এ এইচ এম কামরুজ্জামান সবাইকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। এর পর রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মামুন মাহমুদকে মেরে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা। কাশেমেরা মনস্থির করেন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাকিস্তানি সেনারা ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী ব্যারাকে ঢুকতে পারেনি। ২৯ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ৩০ মার্চই কাছের সীমান্ত অতিক্রম করেন কাশেমসহ অন্যরা। পরে ভারতের বহরমপুরের শেখালীপুর উচ্চবিদ্যালয়ে এসে ইপিআরের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় হয়। মুক্তিযুদ্ধ করেন সাত নম্বর সেক্টরের অধীনে। তিনি জানান, যুদ্ধের পর তিনি আবার পুলিশ বাহিনীতে ফিরে যান। অবসর নেন ২০০৩ সালে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা মুক্তিবার্তায় আবুল কাশেমের নাম ছিল। পুলিশ বাহিনীর করা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম আছে। এ ছাড়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রদত্ত সনদও আছে। সব ধরনের স্বীকৃতি পেলেও যুদ্ধাহত এ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরে থাক, কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন অনেক। কোনো কাজ হয়নি। ক্ষোভে এখন আর কোথাও যান না।
আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি সুন্দর একটি দিনের প্রত্যাশায়। অর্জনও অনেক। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। গুলি যখন লেগেছে তখন মরেও যেতে পারতাম। কিন্তু আজ পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। কেউ ফিরেও তাকায় না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো ভাতা পাইনি। প্রাপ্য সম্মানটাও নেই। আমি এসব কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলার চেষ্টা করছি।’

রাঙ্গুনিয়া থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বশির আহমদ বলেন, ‘এতদিনেও একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা না পাওয়া দুঃখজনক। আমরা আমাদের চেষ্টা করেছি বাকিটা সরকারের ব্যাপার। তবে বর্তমান সরকার এবার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে হয়ত অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন আবুল কাশেম। তাঁর যাবতীয় সনদ আছে।’

পাতাটি ২৯৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন