logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীর অধিকাংশ ক্লিনিক চলছে চরম অব্যবস্থাপনায় দুই ক্লিনিক মালিককের এক থেকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ॥ তিনটি ক্লিনিক সীলগালা
রাজশাহী মহানগরী ও উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ ক্লিনিক ও বেসরকারী হাসপাতাল চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিম্নমানের ক্লিনিক গুলোর হাতুড়ে ডাক্তারদের খপ্পড়ে পড়ে কোন কোন রোগীর অকাল মৃত্যু ঘটছে। আবার অনেক রোগী পুঙ্গত্ব বরণ করছে। গতকাল নগরীতে এরকম তিনটি ক্লিনিকে বিরুদ্ধে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে দুটি ক্লিনিক মালিকের কারাদন্ড এবং অপর একটি বেসরকারী হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর মধ্যে এক ক্লিনিক মালিকের ছয় মাস অপর ক্লিনিক মালিকের এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আহম্মেদ সালেহীন ও মোবাশশেরুল এবং আলমগীর কবির-এর নের্তৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত মেডিক্যাল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ল্যাবরেটরী নিয়ন্ত্রন অধ্যাদেশ-১৯৮২ সালের ৯ (ক)(গ)(চ)/১৩(২) ধারা মোতাবেক ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় প্রদান করেন।
ভ্রম্যমান আদালত গতকাল বিকেলে প্রথমে নগরীর কাজিহাটা এলাকারডক্টর‘র ক্লিনিকে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ভ্রম্যমান আদালত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকা, চাহিদা মেতাবেক ডাক্তার, নার্স ও লোকবলের অভাব এবং লাইসেন্স না থাকার দায়ে ডক্টর‘র ক্লিনিকের মালিক মাসকুরা খাতুন কে ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে। একই সাথে ক্লিনিকটি সীলগালা করতে রাজশাহী সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন। এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত মাসকুরা খাতুন নগরীর রাজপাড়া থানার ঝাউপাড়া এলাকার ইয়াহিয়া খানের স্ত্রী। এরপর এই একই এলাকার মমতাজ উদ্দিন (বেসরকারী) জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালায়। সেখানেও একই অনিয়ম দেখতে পান ভ্রাম্যমান আদালত। মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারী ল্যাবরেটরী অধ্যাদেশ ১৯৮২ সালের ৯ (ঙ)(গ)(চ)/১৩(২) ধারা মোতাবেক এই ক্লিনিকের মালিক মিজানুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রম্যমান আদালত। একই সাথে ক্লিনিকটি সীলগালা কারার নির্দেশ দেন। ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে থাকা র‌্যাব সদস্যরা এই দুই ক্লিনিক মালিকদের সাথে সাথে আটক করে। ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত মমতাজ উদ্দিন (বেসরকারী) জেনারেল হাসপাতালের মালিক মিজানুর রহমান গোদাগাড়ী উপজেলার প্রসাদপাড়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্র। পরে ভ্রাম্যমান আদালত নগরীর লক্ষীপুর ঝাউতলার মোড় উত্তরবঙ্গ জেনারেল হাসপাতালের অভিযান চালায়। অভিযান কালে ভ্রাম্যমান আদালত ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষণক ডাক্তার দেখতে পাননি। এ ছাড়া ক্লিনিকটির কোন সরকারী অনুমোদন (লাইসেন্স) না থাকা , প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স নিযোগ না দেয়ার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। পাশাপাশি ক্লিনিকটি সীলগালা করার নিদের্শ দেন। অভিযানকালে রাজশাহী সিভিল সার্জনের পক্ষে ডা. গাজিউল আলম ও র‌্যাবের এক কর্মকর্তাসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র মতে শুধু এই তিনটি হাসপাতাল নয়। নগরী এবং উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ হাসপাতাল চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্লিনিক গুলোতে মানসম্মত ডাক্তার, নার্স, অপারেশন থিয়েটার নেই। রোগীর অপারেশনের পর পর্যবেক্ষর ওয়ার্ডে রাখার নিয়ম থাকলেও সেই ওয়াড নেই। অপারেশনের পর রোগীকে সরাসরি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এই সব ক্লিনিকে এক শ্যেণীর দালালের মাধ্যমে রোগীদের ধরে আনা হয়। গ্রামের সহজ সরল পরিবারের রোগীদের ভালো ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানোর নাম করে এসব ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। এরপর সাধারণ ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এমনও ঘটনার নজির রয়েছে সামান্য পেটের যন্ত্রনা নিয়ে কেই এসব ক্লিনিকে ভর্তি হলে তাদের এ্যাপেন্ডিসাইটিস-এর নামে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর দ্রুত তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে রোগীর কোন সমস্যা হলে এর দায় দায়িত্ব তারা নিতে চান না। তড়িঘড়ি করে রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সম্প্রতি পুঠিয়ার রায়হান ক্লিনিকে এক রোগীর এ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। এই নিয়ে রোগীর স্বজনরা বিক্ষোভ করে ডাক্তারের শাস্তির দাবী করে। সূত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩১৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন