logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo চরম দুর্ভোগে নগরবাসী
রাজশাহী মহানগরীতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের সাথে দেখা দিয়েছে খাবার পানি সমস্যা ও মশার অত্যাচার। সমস্যাগুলো যেন একে অপরের সম্পূরক হয়ে গেছে। কেননা বিদ্যুৎ না থাকলে পানি তো থাকেই না বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে মশার উৎপাত। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ, পানি ও মশা নিয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নগরবাসী। সেই সাথে শুরু হয়ে গরমের কষ্ট।

নগরজুড়ে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। কখনো একঘন্টা কখনোও দু‘ঘন্টা আবার কখনোও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছেনা। কোন কোন এলাকায় সারাদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে ৪/৫ ঘন্টা। ফলে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় রাজশাহীর অধিকাংশ ফিডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাজশাহীতে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চাহিদার তুলনায় অনেককম সরবরাহ পাচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে মশার উৎপাত। সাধারণ মানুষ কোনভাবেই দমন করতে পারছে না তাদের। অনেকেই বলেছেন, ক্ষুদ্র প্রাণী এই মশার কাছে নগরীর মানুষ এখন অসহায়। মশার দাপটে অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশার অত্যাচারে ছেলে মেয়েরা ঠিকমতো পড়াশুনা করতে পারছে না। কয়েল জ্বালিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সন্ধ্যা হলেই মশারি টাঙিয়ে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। আর বিদ্যৎ চলে গেলে মশার অত্যাচর দ্বিগুণ হয়ে যায়। মানুষকেই যেন টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতে চায় মশা। এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে রাসিকের অধিকাংশ পানির পাম্প ঠিকভাবে চলছে না। পাম্পগুলি পানি উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এজন্য নগরীতে পানি সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। যাদের রির্জাভ ট্যাঙ্কি রয়েছে তারা কোন মতে চলতে পারলেও অধিকাংশ নগরবাসীই তাদের দৈনন্দিনের পানি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে অনেকেই পুকুর বা ডোবার পানিতে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালাচ্ছেন। এছাড়াও রাসিকের বিভিন্ন ওর্য়াডে স্থাপিত টিউবয়েলগুলো অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কেননা শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। এজন্য নগরীসহ আশপাশের এলাকার অনেক টিউবয়েল অচলাবস্থায় রয়েছে।

সুত্র মতে, রাজশাহী মহানগীতে প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা হচ্ছে ৪৫ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে এর তিন ভাগের একভাগ। এতে নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় রাজশাহীর ১১টি ফিডারের মধ্যে ৮টিই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চালু থাকা ৩টি ফিডারের মাধ্যমে নগরী, সেনানিবাস ও বোরো আবাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। রাজশাহী সেনানিবাসসহ মহানগরীতে ৫টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ৩টি ফিডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেনানিবাসের জন্য ১টি ও মহানগরীর জন্য ১টি ফিডার চালু রাখা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিসিক শিল্প নগরীর ফিডার। এছাড়াও নগরীর বাইরে সেচ এলাকার জন্য ৫টি ফিডারের মধ্যে ৪টি বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়াও বিদ্যুৎ সমস্যার সাথে যোগ হয়েছে পানি সংকট। নগরীতে এমন কিছু ওয়ার্ড আছে, যেখানে সিটি কর্পোরেশনের সরবরাহকৃত পানির সংযোগ এখনও পৌঁছেনি। সে সব ওয়ার্ডের মানুষের খাবার পানির ভরসা টিউবওয়েল ও পুকুর। সিটি কর্পোরেশন যে পরিমাণ খাবার পানি সরবরাহ করছে, তা নগরবাসীর চাহিদার তুলনায় কম। বর্তমানে প্রতিদিন পানির মোট চাহিদা ১০ কোটি ৩০ লাখ লিটার। এই চাহিদার বিপরীতে তারা পানি সরবরাহ করেন সাত কোটি ৩০ লাখ লিটার। ৬২টি পাম্প ও সাড়ে তিন হাজার নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ টিউবওবয়েল অকেজো অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বেশ কয়েকটি পানির পাম্প বন্ধ রয়েছে। সেগুলি পূনরায় চালুর কাজ চলছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের সাথে যোগ হয়েছে মশার অত্যাচার। মশার দাপটে অতিষ্ট রাজশাহীবাসী। একটি সূত্র জানায়, ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ১৬’শ লিটার মশা নিধনের তরল বিষ ক্রয় করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। নগরবাসী মনে করছেন, জানুয়ারী মাসের শেষ দিক থেকে মশক নিধন শুরু করলে মশার উপদ্রব এতো ভয়াবহ আকার ধারণ করতো না। রাসিকে ৩০টি ওয়ার্ডের মশক নিধনের জন্য মাত্র ১৬টি ফগার মেশিন রয়েছে। প্রতিদিন ৫টি ওয়ার্ডে ১৫টি মেশিন ব্যবহার করা হয়। বাকী একটি মেশিন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়। তবে অবাক হবার বিষয় হলো ওষুধ ছিটানোর পরও মশার উৎপাত কমছেনা।

উত্তরাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আরজাদ হোসেন জানান, রাজশাহী মহানগরীতে ৫০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার জাতীয় গ্রীড থেকে ৩৩ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। সরবরাহ কম হওয়ার কারণে নগরীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাতাটি ৩১১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন