logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীর বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার
রাজশাহীর বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে হামলার আশংকায় পুলিশ এই বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহন করে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়া এবং অধিকাংশ সেচ কাজের জন্য সরবরাহ করার কারণে লোড সেডিং বেড়েছে বলে বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে রোববার রাতে নগরীর শালবাগান বিদ্যুৎ উপ-কেন্দ্রের এক কর্মচারীকে লাঞ্চিত করা হয়। এ সময় এলাকায় মাইকিং করে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষনা দেয় এলাকাবাসী। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাতেই ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশ পাহারা বসানো হয়। একই সাথে নগরীর অপর বিদ্যুৎ অফিসগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় রাজশাহীর ১১টি ফিডারের মধ্যে ৮টি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্য পড়তে হয়েছে রাজশাহীবাসীকে। আর ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম। শেয়ার মার্কেটের সিকিউরিটিজ হাউজগুলোতেও ট্রেডিংয়ে ব্যাঘাত ঘটছে। বিঘিœত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য আর শিল্প কারখানায় উৎপাদন। চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বোরো আবাদের সেচ কার্যক্রম। জানা গেছে, রাজশাহীতে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরিতে গত দু-দিন ধরে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট।

রাজশাহী বিদ্যুৎ অফিস সুত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ ১১টি ফিডারের মাধ্যমে রাজশাহীতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ৮টি ফিডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চালু রাখা ৩টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ঘন্টায় ঘন্টায় অবার কোন কোন এলাকায় তিন থেকে চার ঘন্টা পর্যন্ত লোড শেডিংয়ের মধ্যে পড়তে হচ্ছে লোকজনকে।

সুত্র মতে, রাজশাহী সেনানিবাসসহ মহানগরীতে ৫টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ৩টি ফিডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেনানিবাসের জন্য ১টি ও মহানগরীর জন্য ১টি ফিডার চালু রাখা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিসিক শিল্প নগরীর ফিডার। এছাড়াও নগরীর বাইরে সেচ এলাকার জন্য ৫টি ফিডারের মধ্যে ৪টি বন্ধ রয়েছে। ফলে অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘস্থায়ী ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিভিন্ন অফিস আদালত ব্যাংক বীমায় স্বাভাবিক কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হয়। চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্প কারখানায় উৎপাদন। ব্যহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম।

রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আরজাদ হোসেন বলেন, রাজশাহীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৪৫ মেগওয়াট। কিন্তু গত বুধবার থেকে জাতীয় গ্রেড থেকে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ১০ মেগাওয়াটে। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার করনে ৮টি ফিডার বন্ধ রাখতে হয়েছে। এছাড়াও সরবরাহের বেশীর ভাগ বিদ্যুৎ সেচের জন্য বোরো আবাদের এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে কম বিদ্যুৎ ম্যানেজ করে দিতে দিয়ে বিশেষ করে মহানগরীতে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুল আমিন জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়। সে থেকেই বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। তবে শালবাগানের ঘটনার পর নগরীর সকল বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে। সূত্র:সানসাইন

পাতাটি ২৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন