logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা

ঠাকুরগাঁওয়ে গত এক সপ্তাহ যাবৎ প্রচন্ড শীত জেঁকে বসেছে। ২/৩ দিন থেকে শুরম্ন হয়েছে শৈত্য প্রবাহ। গতকাল শনিবার কুয়াশা ও শীত পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডা বাতাসে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সারাদিন সূর্যের দেখা নেই। রাসত্মাঘাটে লোক চলাচল খুব কম। সারাদিন অনেকে দোকানপাট খোলেননি। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলা যানবাহন চলছে বাতি জ্বালিয়ে। ঢাকার নাইট কোচ আসছে পরদিন দুপুরে। শীতার্থ মানুষেরা খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা শীতজনিত রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে বেশি। শনিবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ লাখ মানুষই শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসক মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ জানান, সরকারিভবে কিছু শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে। আরো চাহিদার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও স্থানীয়ভাবে শীতের কাপড় সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আসলাম মোলস্না জানান, ২৪ হাজার কম্বল চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ৪ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে ও তা বিতরণও করা হয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০০ কম্বল, ৫০০ সোয়েটার ও ১৫০ পিস শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে। এবার শীতবস্ত্র বিতরণে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিশ্চুপ রয়েছে।

এবার শীতের কাপড়ের দামও বেশি। তাই গরীব লোকেরা পড়েছে বিপাকে। বিশেষ করে এবার ছোটদের গরম কাপড়ের দাম বেড়েছে তুলনামূলকভাবে বেশি। পুরনো কাপড়ের দামও বেড়েছে একই হারে। ঠাকুরগাঁও শহরের বড় মাঠের পাশে, জজ কোর্ট চত্বরে বসেছে শীতের কাপড়ের অস্থায়ী দোকান। শীতের মৌসুমে সৈয়দপুর, রংপুর থেকে ব্যবসায়ীরা পুরনো শীতের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসে এখানে। গ্রাম থেকে আসা লোকই নয়, শহরের অনেক লোকই ভিড় করে এই পুরনো কাপড়ের দোকানে। হাজিপাড়ার শিমু বেগম ও সরকারপাড়ার সুলতানা রাজিয়া বড় মাঠের পাশে নিজের বাচ্চার জন্য সোয়েটার কিনতে এসেছেন।

তারা জানান, এবার ভালো সোয়েটার বা অন্য কোন ভালো কাপড়ের আমদানি নেই। ছোটদের শীতের কাপড় পছন্দ হচ্ছে না, আবার দামও বেশি। এর মধ্যে বাছাই করে কিনতে হচ্ছে। শহরের মৌচাক মার্কেটের পাশে দোকানে চলছে জ্যাকেট তৈরির। জ্যাকেট ব্যবসায়ী তোতা মিয়া জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কম। শৈত্য প্রবাহ শুরম্ন হলে বিক্রি বাড়বে। তিনি স্থানীয়ভাবে জ্যাকেট তৈরি করে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। তবে অর্ডার দিয়ে বানালে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দাম পড়বে। কয়েকজন ক্রেতা জানান, অর্ডার দিয়ে বানালে নতুন জ্যাকেট মাপমতো হয়। তাছাড়া জ্যাকেটের কাপড় দেখেশুনে অর্ডার দেয়া যায়। কলেজ রোডের হকার্স মার্কেটে জমে উঠেছে সেকেন্ড হ্যান্ড জ্যাকেট ও কোটের কেনাবেচা। তবে দাম অনেক বেশি।

পাতাটি ৩৩৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন