logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo নগরীতে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ
মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে রাজশাহীতে হরতাল পালিত হয়েছে। তিন দফায় লাঠিচার্জ ও পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশ গ্রেফতার করে বিএনপি ও ছাত্রদলের ২৪ নেতা-কর্মীকে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে হরতালে রাজপথে অবস্থান করতে পারেনি বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
সকালে বিনোদপুর এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ ১২ জনকে আটক করে। এরা হলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত রেজা আশিক, যুগ্ন আহবায়ক কামরুল হাসান, বিএনপি নেতা আবু রায়হান, কর্মী দেলয়ার, মকুল, আব্দুর রাজ্জাক, সাধু, একরামুল হক হীরা, রাহী, অভি, রেজা ও উজ্জ্বল।
১০টার দিকে নগরীর ভুবন মোহন পার্ক থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে মহানগর বিএনপি মিছিল বের করে। মিছিলটি রাজশাহী কলেজে গিয়ে শেষ হয়ে কলেজ শহীদ মিনারের সামনে পথসভা শুরু করে। এর কিছুনের মধ্যেই পথসভায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে বিােভকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে আহত হন এনটিভির রাজশাহীস্থ স্টাফ ক্যামেরাম্যান রাজু আহম্মেদ রুবেল। এদিকে, বিএনপি’র প থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের লাঠিচার্জে দলের যুগ্ম মহাসচিব সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, শহিদুন নাহার কাজী হেনা, রওশন আরা পপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, আব্দুল ওয়াদুদ বাবলু, হাসনাত জীবন বেলী, পারভেজ, মেহেদী হাসান সোহাগ, বজলুল হক মুন্টু. রাজিব, মরাদ হোসেন, সেলিমা, জীবন হিরা, কমিশনার নুরুজ্জামান টিটু, আমীন, সামসুন নাহার। অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি সোনাদিঘী মোড় থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এসময় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ২জন আহত হয়। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন মোড়ে পিকেটিংয়ের সময় পুলিশ আরো নয়জনকে গ্রেফতার করে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু বলেন, হরতাল ও মিছিল করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্ত হরতালের সমর্থনে শান্তিপূর্ন মিছিলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা বলেন, আওয়ামী লীগ পুলিশ দিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতন করে আন্দোলনের অধিকার হরণ করতে চায়। হরতালের সমর্থনে শান্তিপূর্ন মিছিলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ হামলা চালায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এ সরকারের বিপে অবস্থান নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে হরতাল পালন করেছে।
তবে লাঠি চার্জ নয় ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ওবাইদুল্লাহ। আর পুলিশের উপর হামলা ও যান চলাচলে বাধা দেয়ার কারণে ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, হরতালের কারণে নগরীর বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। বাস, ট্রাক চলাচল করেনি। রাজশাহী রেল স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে গেলেও টার্মিনাল থেকে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে নগরীতে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করে। দুপরে নগরীতে বেশ কিছু রিক্সা চলাচল করে।

পাতাটি ২৩৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন