logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo হরতাল : নগরীতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও সংঘর্ষ, গ্রেফতার ২৪ বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মিনু আহত অর্ধশত
গতকাল সোমবার হরতাল চলাকালে রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশের লাঠিচার্জ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু ও সাবেক এমপি আব্দুল গফুরসহ অন্তুতঃ ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ এ সময় ২৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। হরতালের সময় নগরীতে দোকানপাট পুরোপুরী বন্ধ ছিলো। রিক্সা ছাড়া অন্য কোন যানবহন চলাচল করেনি। সরকারী অফিসে কোনো কাজ হয়নি। তবে পুলিশের মারমুখি আচরণের কারণে অনেকস্থলেই পিকেটিং করতে পারেনি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ভুবন মোহন পার্ক থেকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নগর বিএনপির সভাপতি রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে একটি মিছিল শেষে রাজশাহী কলেজ চত্বরে পথসভায় বক্তব্য দেয়ার পূর্ব মুহুর্তে পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত লাঠিচার্জ করে। এতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে পুলিশ ৩ কর্মীকে আটক করে। বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে তিনিসহ তাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি নেতা শফিকুল হক মিলন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটো ও বজলুল হক মন্টু জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী হেনা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য রওশন আরা পপি, বেলী, রাজিব, মুরাদ, সেলিনা, শামসুন্নাহার প্রমুখ। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এসময় দায়িত্ব পালনকালে এনটিভির ক্যামেরাম্যান রাজু আহমেদ রুবেলও আহত হন। বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদত হোসেন জানান, রাজশাহী কলেজ এলাকায় পিকেটাররা পুলিশের ওপর হামলা এবং বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় সেখান থেকে ৩ জনকে আট করা হয়। অন্যদিকে সহিংসতা এড়াতে নগরীর সাহেব বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নগরীর বিনোদপুর এলাকায় বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করলে পিকেটিংকারীরাও পুলিশের ওপরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। পরে তাদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছাত্রদল ও বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহবায়ক আরাফাত রেজাসহ ২০ জন আহত হয়েছে। মতিহার থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, পিকেটাররা বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী বিনোদপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে পিকেটিংকালে তাদের সরে যেতে বললেও তারা পুলিশের একটি গাড়ি ও রাস্তার যানবাহন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় ১২ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা বিএনপির সভপতি নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে নগরীর সোনাদীঘির মোড় থেকে শুরু হয়ে একটি মৌন মিছিল লোকনাথ স্কুলের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া করে লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় বাগমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আব্দুল গফুর, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইয়াহিয়া খানসহ অন্ততঃ ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরতাল চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ আরো ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করে বলে জানা গেছে। শান্তিপূর্ণ হরতালে লাঠিচার্জ : পুলিশের নগ্ন আচরণের বহি:প্রকাশ মহানগর যুবদল গতকাল সোমবার রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ হরতালে পুলিশি হামলা, লাঠিচার্জ ও বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে পুলিশের এই ধরনের আচরণকে নগ্ন আচরণের বহি: প্রকাশ বলে দাবী করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ৭ ফেব্র“য়ারী সারা বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার বাজারের দুর্নীতি, আইন-শৃংখলার অবনতি, আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে অত্র এলাকাবাসীর উপর পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ডাকে হরতালে সরকার তার পেটুয়া বাহিনীর দ্বারা রাজশাহী গভ: কলেজ চত্বরে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে মিছিলে বাধা প্রদান করে এক পর্যায়ে আকষ্মিকভাবে লাঠিচার্জ করা শুরু করে এতে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: শফিকুল হক মিলন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, যুগ্ম-আহবায়ক ও বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আসলাম সরকার, যুগ্ম-আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য ওয়ালিউল হক রানা গুরুতর আহত হয়। আহত হয় শত শত নেতা-কর্মী। অন্যদিকে গৌড়হাঙ্গা চত্ত্বর, রেলগেইট চত্বর, বিনোদপুর চত্বরে মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান ও লাঠিচার্জ করে আহত অবস্থায় যুবনেতা শাধু, মুকুল, ছাত্রনেতা রাহি, দেলোয়ার, উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের এই নগ্ন আচরণে আহত হয় অনেক যুবনেতা ও ছাত্রনেতা। সরকারের এই আচরণ প্রমাণ করে তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করেনা, তাই গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে বাকশালী কায়েমের মাধ্যমে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই নব্য স্বৈরাচার হাসিনা সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, বিধায় জনগণ নিজের অধিকার আদায়ের হরতাল সফল করেছে। তারা দিন বদল চায় না, এই ব্যর্থ সরকারের পতন চায়। সরকারের এই হীন আচরণ পরিহার করে দমন, পীড়ন নীতি পরিহার করে দেশ ও জনগণের কল্যাণকর কাজে আত্তনিয়োগ করা এবং অবিলম্বে বিএনপিসহ তার সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তির দাবী জানিয়েছেন মহানগর যুবদলের আহবায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। যুগ্ম-আহবায়কঃ আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, গোলাম আরিফ খোকন, রবিউল আলম মিলু। আহবায়ক কমিটির সদস্য বজলুর হক মন্টু, শামসুর হোসেন মিলু, প্রিন্সিপাল বিপ্লব, শাহানুর ইসলাম মিঠু, মুরাদ পারভেজ পিন্টু, মাহফুজুর হাসনাইন হিকল, নূরুজ্জামান টিটু, বেলাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম পচা, রাসেদুল ইসলাম লাবু, হুমায়ন আহম্মেদ, আজিজুল, সোরাব আলী, সুলতান, ফেরদৌস ওয়াহিদ রনি, শরফুজ্জামান শামীম ফায়ারিং, নূরুল ইসলাম নূরু, জসিম উদ্দীন, জিল্লুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, আব্দুল কুদ্দুস ডলার, সাবর আলী, রহিম বাবু, রহিম রেজা রানা, মহানগর যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মুকুল হোসেন প্রমুখ। মোহনপুর প্রতিনিধি জানান, মোহনপুরে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সকাল ১১টায় মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করে। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এমএ সামাদ, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন, অধ্যাপক মফিজুর রহমান মধু, ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব, যুবদলের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু প্রমুখ। সূ্ত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩৩৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন