logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাসিকের আবাসিক প্রকল্পের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ : জান দেব তবু জমি দেব না
রাজশাহী মহানগরীর মুশরইল-মেহেরচণ্ডী মৌজার ১৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এক হাজার ৩০০টি প্লট। এর বিরুদ্ধে ওই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে এবং কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সমাবেশ থেকে জনতা ঘোষণা দেয়—‘রক্ত দেব, তবু আমাদের কৃষি জমি অধিগ্রহণ করতে দেব না।’
গতকাল সকাল ১১টার দিকে মুশরইল-মেহেরচণ্ডী মৌজার ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে এলাকাবাসী। পরে এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আসলাম উদ্দিন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ওমর ফারুক, পারিলা ইউপি সদস্য আবুল কাসেম, আবদুল মালেক, জাকির হোসাইন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ছোটবন, মুশরইল ও মেহেরচণ্ডী মৌজার শতকরা নব্বইভাগ অধিবাসী কৃষক। কৃষিই তাদের প্রধান জীবিকা। এখানকার মানুষের পৈতৃক জায়গা-জমি এক এক করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের নামে গ্রাস করে নিচ্ছে। এর আগে হাউজিং এস্টেট এবং আরডিএ ভূমি অধিগ্রহণ করে পদ্মা, চন্দ্রীমা, পারিজাত, মহানন্দা নামে আবাসিক প্রকল্পের নামে কয়েক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে এখানকার কৃষকদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। এতে জমির উপযুক্ত মূল্যও তারা পাননি না। ওইসব জমি হারানোর শোক না কাটতেই সিটি করপোরেশন আবারও কৃষকদের বিশাল জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। যে কোনো মূল্যেই কৃষকের এই ভূমি রক্ষা করতেই হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা আগামীদিনে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, স্মারকলিপি, ডিসি অফিস ঘেরাও এবং শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।
পরে কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আবাসন প্রকল্পের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে কৃষক-কৃষাণীরা। তারা ঝাড়ু, কাস্তে, দা ও কোদাল নিয়ে নগরীর মুশরইল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা আবাসন প্রকল্পকে জনস্বার্থবিরোধি আখ্যায়িত করে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আড়িয়ল বিলের মতো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগরীর মুশরইল, মেহেরচণ্ডী ও ছোটবন গ্রাম এলাকার প্রায় ১৩৬ একর আবাদি জমি অধিগ্রহণ করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। অথচ আবাসন প্রকল্প করার কোনো প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে রাজশাহীতে নেই।
তারা আরও বলেন, উল্লিখিত তিন মৌজার লোকজন এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বাইপাস সড়ক করতে গিয়ে শত শত একর জমি হারিয়েছেন। এবার আবারও যদি জমি হারাতে হয়, তাহলে কৃষকদের পথে বসতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যেসব জমি সিটি করপোরেশন অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে তাতে বছরে তিনটি ফসল হয়। ওই এলাকার মানুষের একমাত্র পেশা কৃষি কাজ। সিটি করপোরেশন যদি জমি অধিগ্রহণ করে, তাহলে তাদের সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
কৃষকরা আড়িয়ল বিলের উদাহরণ টেনে বলেন, রক্ত দেব, তবু জমি দেব না। প্রয়োজনে যে কোনো ধরনের সংগ্রাম করতে তারা প্রস্তুত থাকবেন বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মুশরইল, মেহেরচণ্ডী মৌজা ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আসলাম উদ্দিন বলেন, আমাদের বেঁচে থাকার জন্যই ভূমি রক্ষা করতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেমেছি। যে কোনো মূল্যেই হোক আমরা পৈতৃক ভূমি রক্ষা করব। মেয়র এই প্রকল্প বাতিল না করলে আড়িয়ল বিলের আন্দোলনের চেয়েও ভয়াবহ শিক্ষা নিতে হবে।
কৃষক এসএম ওমর ফারুক বলেন, মাটির বুক চিরে কৃষকরা ফসল উত্পাদন করে আর সবাই সেই খাদ্য খেয়ে জীবন বাঁচান। কিন্তু সেই কৃষকদের মেরে কার স্বার্থে এসব প্রকল্প করা হচ্ছে? রক্তের বন্যা বয়ে গেলেও এখানকার এক বিন্দু জমিও আমরা ছাড়ব না।
কৃষক জাকির হোসেন বলেন, মুন্সীগঞ্জের মানুষ যেভাবে আড়িয়ল বিল বক্ষা করেছে, প্রয়োজনে এর চেয়ে বৃহত্ আন্দোলন গড়ে তোলে আমরা আমাদের কৃষি জমি রক্ষা করব।
এ ব্যাপারে গতকাল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তার পিএস জানান, স্যার ব্যস্ত আছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের একজন প্রকৌশলী জানান, গত ১৮ মে নগর ভবনের মেয়র সম্মেলন কক্ষে রাসিকের এক সভায় মহানগরীর আবাসন সমস্যা দূর করতে মহানগরীর মুশরইল-মেহেরচণ্ডী মৌজার ১৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ওই সভায় স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি মেয়রের ওপরই নির্ভর করছে।

পাতাটি ৩৪৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন