logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহী চেম্বার নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষ কঠোর অবস্থানে ॥ সংঘর্ষের আশংকা
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের (আরসিসিআই) আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পক্ষ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি চাইছে যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে অন্য পক্ষ আওয়ামীলীগ পন্থী ব্যবসায়ীদের একটি অংশো দাবী নির্বাচন পিছিয়ে প্রশাসক নিয়োগ। কোন পক্ষই তিল পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ। দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরমধ্যে চেম্বারের বর্তমান পরিষদ যেকোন মুল্যে আগামীকালকে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সম্পন্ন করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন। অন্য দিকে আওয়ামীলীগ পন্থী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অবৈধ ভোটার ও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। প্রয়োজনে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ফলে আগামীকালের চেম্বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা এই নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সাধারণ ভোটাররা।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আজ রাত পোহালেই কাল নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু ভোটার তালিকায় রাজশাহীর প্রকৃত ভোটারদের নাম না আসা এবং অবৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবীতে আওয়ামীলীগ পন্থী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পেছানোর দাবী করে। কিন্তু ভোটার তালিকা তৈরী, তফসিল ঘোষণাসহ যাবতীয় কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে দাবী করে বর্তমান সভাপতি আলহাজ্জ্ব বাক্কার আলী নির্বাচন যথা সময়ে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। এর পর থেকে চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বর্তমানে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এর আগে আওয়ামীলীগ পন্থী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ চেম্বার সভাপতির সাথে দেখা করে তাদের দাবী জানিয়ে আসে। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হলে গত রোববার তারা চেম্বার ভবন ঘেরাও এবং ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, আ’লীগ নেতা আতিকুর রহমান মন্টু, আনসারুল ইসলাম খিচ্চু প্রমুখ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজশাহী চেম্বারের বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের স্বার্থে বিপুল সংখ্যক অবৈধ ভোটার তালিকাভুক্ত করেছেন। এসব অবৈধ ভোটার বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশ করলেও তা এখনও বাতিল করা হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কারণ দর্শালেও চেম্বার কর্তৃপক্ষ তার গুরুত্ব দেননি। তারা বিপুল সংখ্যক অবৈধ ভোটার রেখেই নির্বাচন করতে চায়। বক্তারা অবিলম্বে রাজশাহী চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ শেষে চলমান নির্বাচন বাতিলের দাবি করেন। পাশাপাশি অবৈধ ভোটার বাতিলেরও দাবি করেন তারা। পরে ব্যবসায়ীরা রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। শুধু স্মারকলিপি প্রদান-এর মাধ্যমে তারা থেমে নেই। নির্বাচন বন্ধ করতে যা যা করার দরকার তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মহানগর যুবলীগের এক নেতা। এর জন্য আদালত পর্যন্ত যেতেও তাদের কোন অসুবিধা নেই। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে আদালতের ষ্টে-অর্ডার চাইবে তারা। এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে অন্য পথে এগুতে হবে বলে জানান ওই নেতা। এ ব্যাপারে চেম্বারের বর্তমান সভাপতি বাক্কার আলী জোর দিয়ে বলেন, ভোটার তালিকায় একটিও ভুয়া ভোটার নেই। কারণ নিয়ম অনুযারী যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য কেবল তাদের নামই ভোটার তালিকায় আছে। তিনি দাবী করেন একটি মহল নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছে। সুষ্ঠুভাবে যাতে নির্বাচন হতে না পারে এর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। নির্বাচন নিয়ম অনুযায়ী করছে নির্বাচন কমিশনাররা। এই নিয়ে রাজশাহী চেম্বারের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের কোন মাথা ব্যথা নেই বলে তিনি জানান। তবে নির্বাচনের দিন ভোটারদের বাঁধা দেয়াসহ ভোট কেন্দ্রে কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে নির্বাচন কমিশনার। তারাই বিষয়টি দেখবেন। তবে জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ভূয়া ভোটার তালিকা দিয়ে এই নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সাধারণ ভোটাররা আইনগত ভাবেই এই নির্বাচন বন্ধ করবে বলে তিনি জানান। সূ্ত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ২৮৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন