logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে এবার গুড়ের সাথে মেশানো হচ্ছে আলু
নানারকম রাসায়নিক ভেজালের সাথে এবার রাজশাহীতে গুড়ের সাথে আলু মেশানো হচ্ছে। গুড়ের রঙয়ের জন্য নয়, ওজন বৃদ্ধির জন্য গুড় ব্যবসায়ীরা আলু মেশাচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে ৭ টাকা কেজি দরের আলু আখের গুড়ের সাথে মিশে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় এবং খেজুরের গুড়ের সাথে মিশে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু মেশানোর ফলে গুড় উৎপদানকারীরা লাভবান হলেও গুড়ের মিষ্টতা কমে যাচ্ছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর, বাঘার আড়ানী, নন্দনগাছী, পুঠিয়ার বানেশ্বর, পবার হরিয়ান, নাটোরের লালপুর, গোপালপুরসহ আশেপাশের অনেক এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমিতে আখের চাষ হয় এবং এসব এলাকায় প্রচুর পরিমাণে খেজুরের গাছ রয়েছে। একারণে এসব এলাকায় বিপুল পরিমাণে আখের ও খেজুরের গুড় উৎপাদন হয়। এসব এলাকার গুড় উৎপাদনকারী লোকজন ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইতোপূর্বে রং বৃদ্ধির জন্য গুড় তৈরীর সময় বিভিন্ন রকম রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হতো। এসব রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজ, ফিটকারী, চুন, রং, ইটের গুড়া এবং বেলন পাট নামে এক প্রকার পাট জাতীয় গাছ। এগুলো গুড়ের রং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হলেও আলু মেশানো হচ্ছে ওজন বৃদ্ধির জন্য। এতে গুড়ের ওজন দ্বিগুণ হচ্ছে। গুড় উৎপাদনকারী জানান, হাইড্রোজ, ফিটকারী, চুন, রং, ইটের গুড়া ব্যবহার করে খারাপ রঙের গুড়ে ভাল রং এনে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা হয়। ফলে দাম ভাল পাওয়া যায়। এছাড়া বেলন পাট নামে এক প্রকার পাট জাতীয় গাছ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেটি ভালভাবে পিষে তরল গুড়ের সাথে মেশানো হয়। এতে গুড় ঝকঝকে হয়। হাইড্রোজ, ফিটকারী, চুন গুড়ের সাথে খেলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয় বলে ডাক্তারেরা জানান। রাজশাহীর বাজারগুলোতে এখন প্রতিকেজি আখের গুড় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং খেজুরের গুড় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গুড় উৎপাদনকারীরা বেশী দাম পাওয়ার আশায় গুড় তৈরীর সময় আলু মেশাচ্ছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পবার হরিয়ান এলাকার একজন গুড় উৎপাদনকারী জানান, কড়াইয়ে রস জ্বাল দিতে দিতে যখন গাঢ় হয়ে আসে তখন সেদ্ধ আলু ভালভাবে নরম করে (ভর্তার মত) তার সাথে দিয়ে ভালভাবে মেশানো হয়। এসময় আলুগুলি একবারে তরল গুড়ের সাথে মিশে যায়। এগুলো ছাঁচের মধ্যে দিয়ে কয়েক ঘন্টা রেখে দিলেই গুড় হয়ে যায়। তখন আর কারো ধরার উপায় থাকেনা এর সাথে আলু মেশানো আছে। দশ কেজি তরল গুড়ের সাথে আরো দশ কেজি আলু মিশিয়ে দেয়া হয়। এতে গুড়ের ওজন দ্বিগুণ হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ৬ থেকে ৭ টাকা। কিন্তু গুড়ের সাথে মেশালো গুড়ের ওজন বেড়ে দি¦গুণ হয়। তখন এর দাম হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এ কারণে আলু মেশানো হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, এতে গুড়ের মিষ্টতা কমছে। গুড়ের সাথে হাইড্রোজ, ফিটকারী, চুন এসব রাসায়নিক দ্রব্য মিশালে শরীরের ক্ষতি হয় বলে জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডাক্তার সাইদুর রহমান। তিনি জানান, আলু মেশালে শরীরের তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু মানুষ যে মিষ্টির আশায় গুড় খাবে এতে সে মিষ্টি কমে যাচ্ছে। সূ্ত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩৫২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন