logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রদলের সমাবেশ পণ্ড : রিজভী-নাদিমসহ অর্ধশতাধিক আহত : গ্রেফতার ১০
গতকাল বিকালে রাজশাহীর সাহেববাজারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বিনা উস্কানিতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কেন্দ্রীয় বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত এবং ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ব্যাপক হামলায় এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাহেববাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় বিএনপির নেতারা রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
আহতরা হলেন ছাত্রদল নেতা জুয়েল, সাইদুর, আলাউদ্দিন, মিলন, নয়ন, শামীম, আলম, হাবিব, ডিজেল, আলমগীর, আলী হোসেন, সামাদ, শাহীন রেজা, বকুল, সাফি, তুহিন, এমদাদ, সাইদুর, ওয়াহেদ, জাহিদ, মন্টু প্রমুখ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাসুম ও তরিকুলের নাম জানা গেছে। তবে বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেছেন, তারা কাউকে গ্রেফতার করেননি। তিনি দাবি করেন, বিনা অনুমতিতে সাহেববাজারের বড়রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে নিষেধ করে। কিন্তু এরপরও তারা সমাবেশে চেষ্টা করলে পুলিশ লাটিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ করে সরকার দেশে যে সেমিবাকশালী শাসন কায়েম করেছে তা দীর্ঘায়িত করতেই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা করছে।
তিনি বলেন, দেশে আজ ফ্যাসিজমের শাসন চলছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন করেছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে এ ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এ জন্য ছাত্রদলকে আগামী দিনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
নাদিম মোস্তফা বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমাপ্ত সাহেববাজারে সমাবেশ-শোভাযাত্রা করার অনুমতি চেয়ে মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। মহানগর পুলিশ কমিশনার আওয়ামী লীগের সভাপতির ভূমিকা পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় সদস্য বেলাল আহমেদ, আজিজুর রহমান, শাহীন শওকত, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মনির হোসেন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা নাজিম উদ্দিন লাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা জার্জিসুর রহমান উত্পল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কামরুল মনির, বিএনপি নেতা আবদুল গফুর, মতিউর রহমান মন্টু, দেলোয়ার হোসেন, আলাউদ্দিন, মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা ছাত্রদল সভাপতি শফিকুল আলম সমাপ্ত, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামান পরাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কেন্দ্রীয় বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি বিশাল শোভাযাত্রা নগরীর আলুপট্টি থেকে শুরু হয়ে সাহেববাজার সোনাদীঘি মনিচত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের ওপর নেতারা উঠে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জেলা বিএনপি সভাপতি নাদিম মোস্তফা প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভীর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ চতুর্দিক থেকে সমাবেশে হামলা চালায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। আমার দেশ

পাতাটি ৩৩৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন