logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
“ক্যা ন দাম বাড়ছে বলতে পারিনা, তবে কিনতে গিয়া বেশি দামে কিনছি তাই বেশী দাম দিয়া বেচছি”- কথাগুলো বললেন রাজশাহীর সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা আমিনুল। রাজশহীর বাজারে শুধু সবজিই নয় লাগামহীনভাবে বেড়েছে চাল, আটা, চিনি ও তেলের দাম। গত কয়েকদিন পিঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া দামের পর গতকাল থেকে কিছুটা কমেছে। বাজারে সবচেয়ে কম দামের চালও বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। আকাশ ছোঁয়া দামে গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নাজেহাল হচ্ছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারা।
গত কয়েকদিন থেকে রাজশাহীতে আকস্মিকভাবে চাল, আটা, তেল, চিনি ও ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে দাম বাড়ছে বিভিন্ন সবজির দাম। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রি-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা কেজি দরে। গত কয়েকদিন পূর্বেও তা ছিল ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা। প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। গত কয়েকদিন পূর্বেও তা ছিল ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। এছাড়া ২৬ থেকে ২৮ টাকার আটা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৩ টাকায়। সোয়াবিন তেলের দামও হু হু করে বাড়তে শুরু হয়েছে। ৯০ টাকা লিটারের খোলা সোয়বিন তেল এখন বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকায়। বোতলজাত সোয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। বাজারে কয়েকদিনে চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকায়।
রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বাজারে প্রচুর পরিমাণে আলু, বরবটি, কচু, বেগুন, পটল, ঢেঁড়শ, পটল, মিষ্টি কুমড়া, মুলাসহ আরো অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের আমদানীর ঘাটতি নাই বলে জানালেও এগুলোর দাম পাগলা ঘোড়ার মত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর প্রকৃত কারণ কেউ বলতে পারছেনা। খুচরা বিক্রেতারা এর জন্য পাইকারী ব্যবসায়ীদের এবং পাইকারী ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রেতাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, এসব সবজি উৎপাদনে তাদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
গতকাল রোববার রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর কাঁচা বাজার, নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, উপশহর কাঁচা বাজার, হড়গ্রাম বাজার, শালবাগান, ভদ্রা বাজার, তালাইমারী বাজারসহ নগরীর আশে-পাশের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে এসব বাজারে কাঁচা শাক-সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, পুরাতন আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। এসব বাজারে প্রতি কেজি নতুন দেশী আলু ২৪ টাকা, বড় আলু ১৮ টাকা, পুরাতন আলু ১৪ টাকা, পটল ১৬ টাকা, ফুল কপি ২৪ টাকা, পাতা কপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, শিম ৩৬ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ২৪/২৮ টাকা, কচু ২৪ টাকা, পেঁপে ৮ থেকে ১০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, ওল কচু ২৪ টাকা, শসা ২৪/২৮ টাকা, মুলা ১৬ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৪ টাকা, প্রতিটি চাল কুমড়া ২০/২২ টাকা, লাউ ২২/২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মরিচ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে বাজারে পিঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০ টাকা হলেও গতকাল তা কিছুটা কমে হয়েছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়।
মুগ ডালের দাম হঠাৎ করেই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে প্রতি কেজি মুগ ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল সেখানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়্। এছাড়া মুসুর ডালের দামও বেড়েছে। ৯০ থেকে ৯২ টাকা দরের মুসুর ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। সোনালী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায় এবং দেশী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।
রাজশাহীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার কারণে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ, গরীব ও সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে দ্রব্য মূল্যের লাগাম টেনে ধরা জরুরী দরকার বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। অন্যথায় সাধারণ মানুষদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন অভিজ্ঞজনেরা। সু্ত্র:নতুন প্রভাত

পাতাটি ৩৪১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন