logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo এক সপ্তাহে নিউমোনিয়ায় ৫ শিশুর মৃত্যু শীতে কাঁপছে রাজশাহী
হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর মানুষ। প্রচন্ড শীতে সবচেয়ে কষ্টভোগ করছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতে জবুথবু হয়ে দরিদ্র মানুষগুলো কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। এতে অনে-কেই অসুস’ হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন ঠান্ডা জনিত রোগে অসংখ্য মানুষ অসুস’ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গতকাল বুধবার ছিলো রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এদিন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রীতে নেমে আসে। গত এক সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৮ ডিগ্রী সেল-সিয়াস। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা সকালে ছিলো ৯৬ শতাংশ সন্ধ্যায় ছিলো ৭৭ শতাংশ। শীতের কারণে মানুষ গরম পোশাক পড়ে জবুথবু হয়ে বাহিরে বের হয়েছেন। পুরনো ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়। মানুষ নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দিনভর কিনেছেন শীতের পোশাক। দোকান-গুলোতেও বেড়ে গেছে শীতের পোশাকের কেনা-কাটা। তবে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন হতদরিদ্র মানুষগুলো। তারা টাকার অভাবে পারছেন না শীতবস্ত্র কিনতে। তাই কোনমতে আগুন জ্বালিয়ে তারা শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। খেটে খাওয়া মানুষ-গুলোর মধ্যে অনেককেই দেখা গেছে শীত বস্ত্র গায়ে জড়িয়ে কাজ করতে। আবার অনেককে দেখা গেছে কাজ ফেলে জবুথবু হয়ে বসে থাকতে। সকালে সাহেববাজারে রিক্সায় বসেছিলেন বৃদ্ধ আলীমুদ্দিন। তিনি জানান, প্রচন্ড শীতের কারণে তিনি রিক্সা চালাতে পারছেন না।
হাসপাতালে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে আসা ঠান্ডা জনিত অসুস’ রোগীর বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। এদের মধ্যে কোন্ড এলার্জি, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, জ্বর, ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগীর সংখ্যাই বেশি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাস-পাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, শীতের কারণে হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি। শিশু বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলো কোল্ড এলার্জিতে আক্রান্ত। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মারা গেছে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার জাহাঙ্গীর আলমের ১১ মাসের পুত্র রিয়াদ, নগরীর বোয়ালিয়া থানার স্বাধীন নামের ৬ দিনের এক শিশু, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ দিনের এক শিশু এবং গত বুধবার ৭ দিনের এক শিশু এবং বৃহস্পতিবার ১২ দিনের এক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, এখন ঠান্ডা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিউ-মোনিয়া, ডায়রিয়া ও সর্দি-কাশিতে। হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিক-গুলোতে প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের আনা হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। শীতের কবল থেকে শিশুদের রক্ষা করতে তাদের গরম অবস’ায় রাখতে হবে। শিশুদের নিয়ে বাইরে কম বের হতে হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুুর রহমান খান বাদশাহ জানান, শীতের কারণে অ্যাজমা, সিওপিডি, ঠান্ডা জনিত এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট যাদের আছে, তাদের রোগের প্রকোপ ও তিব্রতা বেড়ে যায়। এসব রোগে আক্রান্ত যেসব বয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের হৃদরোগেও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি জানান, এখন প্রতিদিনই এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তিনি এসব অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, যারা আগে থেকে এসব রোগের প্রতিরোধ মূলক ওষুধ খাচ্ছেন, তারা তা নিয়মিত খেয়ে যাবেন। শীতে বাইরে কম বের হতে হবে। প্রয়োজনে গরম কাপর পড়ে বের হতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বেশি করে শাক সব্জি খেতে হবে। সূএ:সোনালী সংবাদ

পাতাটি ৩০৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন