logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo রাজশাহীতে বিকল্প কর্মসংস’ান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শেয়ার ব্যবসা
রাজশাহীতে বিকল্প কর্মসংস’ান হিসেবে শেয়ার ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিন দিন বাড়ছে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। পুঁজি বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়ায় এখানকার ছাত্র, শিক্ষক, বেকার যুবক, গৃহবধূ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকতাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বিকল্প কর্ম হিসেবে শেয়ার ব্যবসাকে বেছে নিয়েছেন। তিনটি সরকারি ব্রোকার হাউস ছাড়াও এখানে বেসরকারি ব্রোকার হাউস রয়েছে ৭টি। প্রায় ৩০ হাজার বিনিয়োগকারী এই ব্রোকার হাউসগুলোতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা লেনদেন করছেন। সরকারী ব্রোকার হাউস দুটিতে প্রতিদিন বিনিয়োগকারী বাড়লেও বাড়েনি লোকবল ও সুযোগ সুবিধা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঋণ প্রদান নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজশাহীর ব্রোকার হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিনি-য়োগকারীদের তিব্র ভিড়। রাজশাহীর প্রথম বিনিয়োগকারী সরকারি প্রতি-ষ্ঠান আইসিবি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। প্রতিষ্ঠানটিতে সে সময় ৭ হাজার বিনিয়োগকারী ছিলেন। কিন’ ২০০২ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সেখানে বিনি-য়োগকারীর সংখ্যা কমে এখন ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে ২০০৫ সালের জুন মাসে আইসিবির অধীনে খোলা হয় আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট লিমিটেড এবং আই-সিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং লিমিটেড। আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট লিমিটেডে ঋণ সুবিধা থাকায় বিনি-য়োগকারীদের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠান-টির জনপ্রিয়তা বেশী। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে সাড়ে ৬ হাজার বিনিয়োগকারী রয়েছেন। আইসিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং লিমি-টেড নামের সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে কোন ঋণ সুবিধা নেই। তারপরও সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিনিয়োগ-কারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে আস’া রাখছেন বেশী। এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার।
আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট লিমিটেড রাজশাহীর শাখা ব্যবস’াপক শাহাবুদ্দিন ভুঁইয়া জানান, ২০০৫ সালে এই শাখায় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিলেন মাত্র ৩৮৭ জন। পাঁচ বছরে এখানকার বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী। বেকার যুবক থেকে শুরু করে গৃহবধু, ছাত্র, শিক্ষক. সাংবাদিক, সরকারি-বেসর-কারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণীর মানুষ বিনিয়োগ করছেন। এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ-কারীদের মধ্যে ঋণ দিয়েছে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিনিয়োগ-কারীরা এই শাখায় প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা লেনদেন করছেন। এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে ঋণ সুবিধা থাকায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশী। তবে ঋন প্রদানে কিছু অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিনি-য়োগকারী তসলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, ঋণ প্রদানে প্রভাবশালী, মুখ চেনা ও আত্মীয়-স্বজনদের বেশী সুযোগ দেওয়া হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হয় না। তবে ঋণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্ট লিমিটেড রাজশাহীর শাখা ব্যবস’াপক শাহাবুদ্দিন ভুঁইয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের মূলধন অনুযায়ী সকলকেই সমন্বয় করে ঋণ দেওয়া হয়। রুবেল হোসেন নামের এক বিনিয়োগকারী জানান, সরকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ার কেনাবেচা হলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ নেই। ফলে বিনিয়োগকারীরা সিএসই’র লেনদেন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিজানুর রহমান নামের অপর এক বিনিয়োগ-কারী বলেন, সরকারী দুটি ব্রোকার হাউসে প্রতিদিনই বিনিয়োগকারী বাড়ছে। কিন’ লোকবল বাড়ছে না। স্র্কিনে কোন শেয়ারের দাম দেখে তাৎক্ষণিক বেচাকেনা করতে চাই-লেও তা সম্ভব হয়না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেচাকেনা করতে গিয়ে নির্ধারিত দরও পাওয়া যায় না। তিনি জানান, সরকারী প্রতিষ্ঠান দুটিতে বসার জয়গাও অপ্রতুল। বিনিয়োগকারীরা তাই দাঁড়িয়ে থেকেই স্র্কিনে দর দেখতে বাধ্য হন। টাকা জমা দিতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে নানা সমস্যর মধ্যেও বিনিয়োগ-কারীদের অধিকাংশই লাভবান হচ্ছেন। তাই ভিড় করছেন সব পেশার মানুষ। শেয়ার বাজারে দুই বছর ধরে জড়িত গৃহবধূ ফরিদা খাতুন জানান, এক বছর ধরে বাজার ভালো যাচ্ছে। এখন ভালো লাভ হচ্ছে। কলেজ শিক্ষক তসলিম উদ্দিন জানান, ২০০৬ সালে জমি বন্ধক দিয়ে মাত্র চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। মাত্র চার বছরে সেই মূলধনে এখন তার লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
আইসিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের শাখা ব্যবস’া-পক আবদুল মোতালেব জানান, লোকবল ও সিস্টেমের অভাবে এখানে সিএসই’র শেয়ার কেনাবেচা শুরু হয়নি। তবে শিগগিরই সিএসই’র শেয়ার কেনাবেচার ব্যবস’া করা হবে। তিনি জানান, প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারী বাড়ছে। বর্তমানে লোকবল বাড়ানোর জন্য নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমস্যগুলো দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।
এদিকে রাজশাহীতে সরকারি তিনটি ব্রোকার হাউসের পাশাপাশি রয়েছে বেসরকারি ৭টি ব্রোকার হাউস। এগুলো হলো এনসিসি, এমটিবিএল ব্যাংক ব্রোকারিজ হাউজ, শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, গ্ল্লোব সিকিউ-রিটি, সালতা সিকিউরিটি, প্রাইম ফিন্যান্স, গেটওয়ে ব্রোকারেজ হাউজ। বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠান-গুলোতে রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার বিনিয়োগকারী। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে শিগগির আসছে নতুন ব্রোকার হাউস নিয়ে। গ্লোব সিকিউরিটিজ লিমিটেড রাজশাহীর শাখা ব্যবস’াপক হাসিবুল বাশার জানান, তার শাখায় সাড়ে তিন হাজার বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিনই বাড়ছে বিনিয়োগ-কারীর সংখ্যা। এখানে দৈনিক গড়ে তিন কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। তিনি আরো জানান, রাজশাহীতে দু’ধরনের বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রাইমারি বা আইপিও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। সেকেন্ডারি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেশি।

পাতাটি ৩৫৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন