logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo বিজয়ের মাস ডিসেম্বর / শহরের রাস্তায় পড়ে ছিলো লাশ
পথের দুই পাশে ছিলো ধবংসস’প অগ্নিদুগ্ধ ঘরবাড়ি আর রাস্তার যেখানে-সেখানে পড়েছিলো লাশ। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এপ্রিল মাসে রাজশাহীতে একটি দিনের বর্ণনা দিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কুমারপাড়া নিবাসী খোন্দকার আমিনুল হক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর বেদনাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনার পর সকলেই উদগ্রীব ছিলেন পরবর্তী ঘটনার জন্য। ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে পাকসেনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর। তবে রাজশাহীর রূপ ছিলো ভিন্নতর। কুমারপাড়া এলাকায় বাস করতেন সুরেশ পান্ডে। খানসেনারা তাকেসহ আরো অনেককে হত্যা করে আতংক ছড়িয়ে দেয়। পরের দিন ভোর থেকে লোকজন দলে দলে নদী পার হয়ে ভারতে চলে যায়। ২৮ মার্চ পুলিশ লাইন থেকে সিপাহী বিদ্রোহ হয়। সেই সময় পুলিশ সদস্যরা পাকবাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের জবাব দিয়েছিলো ব্রিটিশ রাইফেল দিয়ে। অনেক পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছিলেন। জাতি তাদের কথা চিরকাল স্মরণ করবে। ৩০ মার্চ পাকবাহিনী রাজশাহীতে ইপিআর ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো। ওই সময় গোলাবারুদের বিস্ফোরণে পুরো শহর আতংকিত হয়ে পড়েছিলো। খোন্দকার আমিনুল হক স্মৃতিচারণে বলেন, ওই সময় তিনি তাহেরপুরে একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন। রাজশাহীর এই পরিসি’তিতে তিনি তাহেরপুরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই সময় গ্রামের মানুষ রেডিওর পাশাপাশি বিবিসি শুনতেন। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল শহ শত পাকসেনা রাজশাহী ছেয়ে গিয়েছিলো। তারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলেছিলো।
যাকে হাতের সামনে পেয়েছে তাকেই গুলি করে হত্যা করেছে খানসেনারা। ১৬ এপ্রিল রাজশাহী বেতার থেকে বলা হয়েছিলো রাজশাহী শহর শান্ত। ওই ঘোষণা শুনে তাহেরপুর থেকে ঘর বাড়ি দেখার জন্য রাজশাহী এসেছিলেন তিনি। ওই সময় পুরো শহরটাকে একটা ধবংসস’প মনে হয়েছিলো। রাস্তার উপর যেখানে সেখানে লাশ পড়েছিলো। একটা লাশের পাশে দাঁড়িয়ে একটা লোককে কাঁদতে দেখা গেলো। তার ভাই আনসার বাহিনীতে ছিলেন। যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে লাশ দেখে চেনার উপায় ছিলোনা যে ওই লাশটি তার ভাইয়ের লাশ। স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি বেলপুকুরে এসে দেখেন, রেল ক্রসিংয়ের কাছে ইপিআর এর সাথে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হচ্ছে। রাস্তার পাশে খাদে অনেক মৃতদেহ পড়েছিলো ইপিআরএর পোশাক পরা। ইপিআর যখন পাকবাহিনীকে বাধা দিয়েছিলো তখন দূরে থাকতেই ওরা মাঝে এবং দুই দিকে দুইভাগ হয়ে আক্রমণ করেছিলো।
স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, একদিন ভোরে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বেলা ১২টায় রাজশাহী শহরে প্রবেশ করেন। ওই সময় তার এলাকা কুমারপাড়া জনশূন্য ছিলো। প্রাচীর টকপিয়ে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে দেখেন তার ছোটভাই নজরুল বাড়িতে নেই। শুধু তাই নয়, বাড়িতে কিছুই নেই। বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সাহেববাজারে আসেন। পুরো বাজার গুড়িয়ে দিয়েছে খান সেনারা। দোকানগুলো ছিলো খোলা, ব্যাংকের দরজাও খোলা। ভয়ে আর সামনের দিকে এগুতে পারেন নি তিনি। ওই সময় একটা লোক ছুটতে ছুটতে তাকে এসে বলেছিলো শহর থেকে বের হয়ে যান ১২টার পর কারফিউ। ওদিন কোন রকমে তিনি আবারো তাহেরপুরে ফিরে এসেছিলেন। সূত্র:সোনালীসংবাদ

পাতাটি ২৭২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন