logo

   

বিস্তারিত সংবাদ

News Photo ফেন্সিডিলের জায়গা নিয়েছে এনার্জি ড্রিংকস
ফেন্সিডিলের দাম বেড়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে ফেন্সিডিলের নেশাখোররা এখন সেবন করছে ফাস্ট ফিলিংস এবং হর্স ফিলিংস নামের দুটি এনার্জি ড্রিংকস। এর মধ্যে পাবনায় উৎপাদিত ফাস্ট ফিলিংস নামের এনাজিং ড্রিংকস মানউত্তীর্ণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় অনুমোদন চেয়েও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পায়নি। তারপরেও অবাধে বাজারে চলছে তা।বিএসটিআই রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আলাউদ্দিন আহমেদ জানান, কোন এনার্জি ড্রিংকসে ৪ শতাংশের ওপরে এলকোহল থাকলে শরীরে উত্তেজনা ও ঝিমুনি ভাব আসতে পারে। তিনি জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন চেয়ে পাবনার আফুরিয়া থেকে উৎপন্ন ফাস্ট ফিলিংস নামের একটি এনার্জি ড্রিংকস কিছুদিন আগে বিএসটিআই রাজশাহীর আঞ্চলিক অফিসে আবেদন করেছিলো। ওই এনার্জি ড্রিংকস ঢাকায় পরীক্ষা করে মানউত্তীর্ণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। তাই ওই এনার্জি ড্রিংকস এর অনুমোদন ঢাকা থেকে দেওয়া হয়নি। লাইসেন্স না থাকার পরও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কীভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, এনার্জি ড্রিংকসের ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন মনে করলে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফেন্সিডিলসেবী জানান, সমপ্রতি ফেন্সিডিলের দাম তিনশ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় হাজার টাকায় ঠেকেছে। তারপরও সেবন করতে গিয়ে নানা রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই তারা অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে এনার্জি ড্রিংকস ফাস্ট ফিলিংস এবং হর্স ফিলিংস সেবন করছেন। ৪৫ টাকা মূল্যের ফাস্ট ফিলিংস এবং হর্স ফিলিংস নামের এনাজিং ড্রিংকস সেবনের পর শরীরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঝিমুনী আসে। নেশা হয়। তারা আরো জানান, টাকা জোগার হলে কয়েকজন সেবনকারী একসঙ্গে বসে কয়েকটি এনাজিং ড্রিংকস এর সঙ্গে এক বা দুই বোতল ফেন্সিডিল মিশিয়ে সেবন করে থাকেন। এতে শরীরে উত্তেজনা এবং নেশা বেশি হয়। টাকার পরিমাণ কম থাকলে ওই দুটি এনার্জি ড্রিংকস বিকল্প ফেন্সিডিল হিসেবে তারা সেবন করেন। পুঠিয়া উপজেলার এক এনার্জি ড্রিংকস বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, বয়সে তরুন ফেন্সিডিলসেবীরাই এই এনার্র্জি ড্রিংকস এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তিনি জানান, এই এনার্জি ড্রিংকস দুটির তেমন প্রচার নেই। টিভি চ্যানেল বা সংবাদপত্রে এর কোন বিজ্ঞাপনও প্রচার হয়না। তারপরও ওই দুটি এনার্জি ড্রিংকস এখন সর্বাধিক বিক্রি হচ্ছে। অপর এক বিত্রেতা জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকায় ব্যবসায়ীরা ওই দুর্টি এনার্জি ড্রিংকস অনেকটা আড়ালে রেখেই বিক্রি করেন। তবে সেবনকারীদের চাহিদা বেশী থাকায় ব্যবসায়ীরা এখন তা কিছু কিছু করে দোকানে রেখে বিক্রি করছেন।
বিসিক শিল্প নগরী চাঁদপুর জেলা থেকে এশিয়া এগ্রো ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন হর্স ফিলিংস নামের এনাজিং ড্রিংকস উৎপাদন করে। এর লেবেলে সাইন্স ল্যাবরেটরী কর্তৃক পরীক্ষিত বলা হয়েছে। এতে উপাদান হিসেবে রেডমাশরুম, স্যাফন, প্রসেসড ন্যাচারাল মিক্স ফ্রুট নির্যাস, সুগার, লিকুইড গ্লুকোজ, ভিটামিন-ই, পারমিটেড ফুড কালার এর ব্যবহার করা হয়েছে বলে বোতলের মনোগ্রামে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাস্ট ফিলিংসেও রেডমাশরুম, স্যাফন, প্রসেসড ন্যাচারাল মিক্স ফ্রুট নির্যাস, সুগার, লিকুইড গ্লুকোজ, ভিটামিন-ই, পারমিটেড ফুড কালার উপাদান ব্যাবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুটি এনার্জি ড্রিংকস এর কোনটাতেই এলকোহল ও কার্বোনেট এর ব্যবহার নেই বলে বোতলের মনোগ্রামে বলা হয়েছে। তারপরও শরীরে উত্তেজনা এবং নেশা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসটিআই রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বোতলের মনোগ্রামে এলকোহল নেই বলা হলেও খুব সম্ভবত ওই দুটি এনার্জি ড্রিংকসে ৪ শতাংশের বেশি এলকোহল ব্যবহার করা হয়েছে। একারণে শরীরে উত্তেজনা ও ঝিমুনি হতে পারে।’ তবে ওই মাত্রায় এলকোহল ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় তা মনোগ্রামে উল্লেখ করা হয়নি- এমনও হতে পারে। সুএ:সোনালী সংবাদ

পাতাটি ৪২৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগ্রহকারী:

 মন্তব্য করতে লগিন করুন